• বদল হতে পারে গণশক্তির সম্পাদক পদে! নেপথ্যে কোন সমীকরণ?
    প্রতিদিন | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • অপরাজিতা সেন: রাজ্য সিপিএমের মুখপত্র ‘গণশক্তি’র সম্পাদক পদ নিয়ে ফের জলঘোলা শুরু হয়েছে। মহম্মদ সেলিম রাজ্য সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এবং গণশক্তির মধ্যে আগের মসৃণ সম্পর্ক নেই। তবু নানা সমীকরণে কাজ চলছিল। এখন সূত্রের খবর, শমীক লাহিড়ীর পরিবর্তে নতুন সম্পাদক আসছেন। পার্টির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর গত বৈঠকে এনিয়ে সবিস্তার আলোচনা হয়েছে।

    এর দুটি কারণ। প্রথমত, গণশক্তির কাজে আরও পেশাদারিত্ব আনতে চায় পার্টি। কিছু খবরের অ্যাঙ্গেল, উপস্থাপনা, বিষয়ে ভুলের কারণে নেতৃত্ব বিরক্ত। দ্বিতীয়ত, শমীক লাহিড়ীর চোখে সমস্যা বেড়েছে। ছোট অক্ষর পড়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অথচ সম্পাদক হলে তাঁকে পড়তেই হবে। সেই কারণে চিকিৎসকের মতামত নিতে হচ্ছে। তৃতীয়ত, পার্টির কিছু ভুলে গণশক্তিতে পার্টির গোষ্ঠীবিন্যাসের ছাপ পড়ে যাচ্ছে। ক’মাস আগে পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে গণশক্তির কর্মীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। কোনওরকমে তখন পরিস্থিতি সামলায় নেতৃত্ব।

    উল্লেখ্য, প্রয়াত অনিল বিশ্বাস সম্পাদক থাকাকালীন গণশক্তি মজবুত ভিতের উপর দাঁড়ায়। পরে অনিলবাবু রাজ্য সম্পাদক হলেও তিনি বাড়তি গুরুত্ব দিতেন পার্টির দৈনিক মুখপত্রটিতে। সেই সময় গণশক্তির টিম ছিল দুর্দান্ত। মৃদুল দে, অভীক দত্ত, অতনু সাহা, দেবাশিস চক্রবর্তী, অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী, অনিকেত চক্রবর্তী, হরিলাল নাথ, ব্রততী নিয়োগী-সহ একঝাঁক কমরেডকে দিয়ে টিম গড়েছিলেন অনিল বিশ্বাস। অনিলবাবু প্রয়াত। অভীক দত্ত, অনিকেত চক্রবর্তীও প্রয়াত। অনিরুদ্ধ, দেবাশিসরা পার্টির মুখপত্র, অন্য প্রকাশনাও দেখছেন। অতনু সাহা নেতৃত্ব দিচ্ছেন মূল কাগজকে। সঙ্গে কিছু পুরনো, বাকি অনেক নতুন মুখ। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে গণশক্তিকে এগোতে হচ্ছে। এর মধ্যে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কিছু মনোভাবে গণশক্তির সমস্যা বাড়ছিল। অভীক দত্তর পর সম্পাদক হন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নেতা প্রাক্তন সাংসদ শমীক লাহিড়ীকে। কিন্তু এখনকার টানাপোড়েনে আবার সম্পাদক বদল প্রায় নিশ্চিত।

    গণশক্তির টিম থেকেই সম্পাদক হওয়ার পক্ষে পার্টির অধিকাংশই। সম্পাদকমণ্ডলীতে আলোচনা হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, শনিবার গণশক্তির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ছিল বলে পরিবর্তন ঘোষণা হয়নি, পরের সপ্তাহে সম্পাদকমণ্ডলীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর হবে। অন্য সূত্র বলছে, শমীক চোখের ডাক্তারের পরামর্শে কিছু পরীক্ষা করিয়েছেন। এখন রিপোর্টের অপেক্ষা। ডাক্তার বললে আর কিছুদিন শমীককে সম্পাদক রাখা হতে পারে। তবে শমীক নিজেও টিমের মনোভাব বুঝে অব্যাহতি চান। এখন দেখা যাক সিপিএমের মুখপত্রের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের জল কোন দিকে গড়ায়।
  • Link to this news (প্রতিদিন)