অন্যের ছবি টুকে তৈরি আর জি করের অভয়ার মূর্তি! প্রমাণ-সহ অভিযোগ আনলেন শিল্পী
প্রতিদিন | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
অভিরূপ দাস: আরজিকরের অভয়ার স্মৃতিতে তৈরি ক্রাই অফ দ্য আওয়ার আদতে নকল! নকলনবিশ অসিত সাঁই। ডক্টর ফ্রন্টের দোলাচলের বাজারে এবার আর জি করের মূর্তি নিয়ে বোমা ফাটালেন শিল্পী সুদীপ্ত বেতাল। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালে তৈরি ওই মূর্তি আদতে তাঁর আকা একটি ছবির হুবহু নকল। ২০১৯ সালে সে ছবি এঁকেছিলেন সুদীপ্ত। গুগল ফটোজ-এ তা ‘সেভ’ করেও রেখেছিলেন। প্রমাণ হিসেবে সেই তারিখ সময় দেখিয়েছেন তিনি। আর্কাইভে গিয়ে দেখা যাচ্ছে ২০১৯ সালের ২৪ আগস্ট এই ছবি এঁকেছিলেন সুদীপ্ত। এই ছবি আঁকার পাঁচ বছর পরে তৈরি হয়েছে ওই মূর্তি।
উল্লেখ্য ২০২৪-এর আগস্টে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর মূর্তি তৈরি করে ভাস্কর অসিত সাঁই দাবি করেছিলেন, ঘটনার আকস্মিকতায় নাকি যন্ত্রনার ছবি তাঁর চেতনায় ভেসে উঠেছে। সেই দাবিকেই মিথ্যে প্রমাণ করল সুদীপ্তর দেওয়া তথ্য। আগেও আর জি করের মূর্তি নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। কী রকম? প্রথমে শিল্পী দাবি করেছিলেন ওই মূর্তির জন্য তিনি টাকা নেননি। যদিও অডিট রিপোর্টে জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্ট জানায়, মূর্তি বাবদ খরচ হয়েছে ৫১ হাজার টাকা! শোরগোল উঠতেই ফ্রন্ট দাবি করে, ৫১ হাজার টাকা দিয়ে মূর্তির নিচে বেদি তৈরি করা হয়েছে।
ফের নতুন অভিযোগ সামনে আসতেই হইচই। সুদীপ্ত বেতালের বক্তব্য, “উনি নাকি অভয়ার ঘটনার পর ঘুমোতে পারেননি। সারা রাত জেগে ওই মূর্তির সৃষ্টি করেছেন। সর্বৈব মিথ্যে। ওটা তো আমার আঁকা একটি স্কেচ টুকে বানানো। অথচ কোথাও আমায় স্বীকৃতি দিলেন না।” উল্লেখ্য, ২০১৮-‘১৯ সালে অসিত সাঁইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতেন সুদীপ্ত। সুদীপ্তর দাবি, সেই সময় এই ছবি আমি ওঁকে দেখিয়েওছিলাম।
কী বলছেন অসিত সাঁই? সুদীপ্তর চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে শনিবার কথা জড়িয়ে গিয়েছে অসিত সাঁইয়ের। নকল করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ওই মূর্তি কোত্থেকে তৈরি? এই প্রশ্নে একেকবার একেকরকম উত্তর দিয়েছেন তিনি। একবার তিনি জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে তিনি নিজেই এই ছবিটি এঁকেছিলেন। যা থেকে পরবর্তীতে ক্রাই অফ দ্য আওয়ার তৈরি করেছেন। আবার কখনও বলছেন এটা ওই সময়ের স্বতন্ত্র সৃষ্টি। তবে ঝামেলার এখানেই শেষ নয়। অসিত সাঁই সম্বন্ধে ভয়ংকর কিছু অভিযোগ সামনে এনেছেন শিল্পী সুদীপ্ত বেতাল। তাঁর বক্তব্য, রীতিমতো রাজনৈতিক মদত রয়েছে অসিত সাঁইয়ের পেছনে। নিজেকে অরাজনৈতিক বলা অসিত সাঁইয়ের দাদা আদতে এক বামদলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। সুদীপ্তর কথায়, তেমন দরের ভাস্কর না হয়েও সেই কারণে একের পর এক বরাত পান তিনি।