মৌসম বেনজির নুরের তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে কামব্যাক করা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। পরিবর্তনের হুঙ্কার দিয়েও অবশ্য তৃণমূল নিয়ে আক্রমণ শানাতে দেখা যায়নি মৌসমকে। তাঁর হাত শিবিরের সঙ্গে পুনরায় হাত মেলানোর বিষয়টি একেবারেই ‘নেক নজর’ দিয়ে দেখছেন না তাঁরই দলের নেতা। মালদা জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সদস্য আব্দুল হান্নানের দাবি, ‘মৌসমের দলে ফেরায় কংগ্রেসের লাভ বা ক্ষতি হবে না’। রাজনৈতিক মহলের কথায়, এই মন্তব্য করে গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নির রাজনৈতিক প্রভাব অস্বীকার করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।
এই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘মৌসম বেনজির নুরের প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেসের লাভ বা লোকসান হবে বলে মনে করি না। কংগ্রেস ছিল, আছে, থাকবে। তিনি যখন ছিলেন না, দেশের নিরিখে সার্বিক ভাবে আমাদের সাংসদ বেড়েছে। তিনি এলে যে সেই সংখ্যাটা ৫৪২ হয়ে যাবে, তা মনে করি না।’ এখানেই শেষ নয়, গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘যিনি সুখের পায়রা হন, তিনি যেখানে সুখ পান, সেখানে যান। যিনি দুঃখের সময়ে ছিলেন না, তাঁকে কংগ্রেসের আসল লোক বলে মনে করি না। তিনি যে দিকে সুবিধা পেয়েছিলেন, সেখানে গিয়েছিলেন। আবার সুবিধা আসতে চলেছে বলে চলে এলেন।’ অর্থাৎ মৌসমকে প্রকারান্তে ‘সুবিধাবাদী’ বলেছেন তিনি।
আব্দুল হান্নানের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। মালদার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘মৌসমের বিষয়ে সকলেই জানেন। তাঁকে চেনেন। আর সেই জন্যই এ কথা বলেছেন কংগ্রেসেরই নেতা।’
অন্য দিকে, বাংলার একমাত্র কংগ্রেস সাংসদ তথা সম্পর্কে মৌসমের দাদা ইশা খান চৌধুরী বলেন, ‘গোটা মালদা চাইছিল মৌসম কংগ্রেসে আসুক। পরিবার এক হোক। আব্দুল হান্নানের মন্তব্য অনভিপ্রেত। আমি মালদায় ফিরে এই ঘটনার তদন্ত করব।’ উল্লেখ্য, ইশা জেলা কংগ্রেসের সভাপতিও।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন মৌসম। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে দল বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রয়াত কংগ্রেস নেতা গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নি। ওই বছরে ২৮ জানুয়ারি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন তিনি। সেই লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে মালদা উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু বিজেপির খগেন মুর্মুর কাছে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। তাঁকে ভোটে না দাঁড় করালেও রাজ্যসভার সাংসদ করেছিল তৃণমূল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শনিবার দিল্লিতে গিয়ে তিনি ফের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করেছেন। হাত শিবিরে ফিরে তিনি দাবি করেছিলেন, কংগ্রেসের প্রধান শত্রু বিজেপি। তৃণমূলের সঙ্গে খারাপ জায়গায় সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি, এই ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি। সার্বিক প্রেক্ষাপটে মৌসমের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতার এই আক্রমণ মালদার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ, মনে করা হচ্ছে এমনটাই।