• ইজতেমায় আগত পূণ্যার্থীদের চিকিৎসায় তৎপর রাজ্য
    আজকাল | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে যথেষ্ট তৎপর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। চারিদিকে বিস্তীর্ণ ফাঁকা মাঠ, বইছে তীব্র ঠান্ডা হাওয়া। রবিবার সকাল থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি। সেই শীত উপেক্ষা করেই ইজতেমায় সমবেত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থী। যেদিকেই চোখ যায়, দেখা যায় মানুষের মাথার সারি। হুগলির পুইনান গ্রামে আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমা কার্যত পরিণত হয়েছে এক বিশাল মানব-মিলনমেলায়।

    এই বিপুল সমাগমে মানুষের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। কেউ বলছেন ৫০ লক্ষ, কেউ ৮০ লক্ষ, আবার কারও মতে এক কোটির কাছাকাছি। প্রকৃত সংখ্যা স্পষ্ট নয়। তবে তীব্র শীতের মধ্যে এত বিপুল মানুষের সমাবেশে চিকিৎসা পরিষেবার ভূমিকা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। সেই কারণেই ইজতেমাকে সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল স্বাস্থ্য দপ্তর।

    ধর্মীয় সম্মেলনে যোগ দিতে এসে নানা কারণে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনে নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তর করাই ছিল স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সম্মেলন লাগোয়া এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী হাসপাতাল। প্রায় ৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ইজতেমা ময়দানের পাশেই তৈরি করা হয়েছে চারটি অস্থায়ী হাসপাতাল। সেখানে মোট ১২০টি শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা উপস্থিত থাকছেন চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম-সহ একাধিক মোবাইল স্বাস্থ্য পরিষেবাও মজুত রাখা হয়েছে।

    কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে খবর আসা মাত্রই তাঁকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই অস্থায়ী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে প্রায় ৪০ হাজার অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওপিডিতে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন প্রায় ৩ হাজার জন। ইতিমধ্যেই ৩৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে গুরুতর অসুস্থতার কারণে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    হুগলি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্ক মৌলিক জানান, গোটা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। হুগলি জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্লকের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকেরাও এই ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন। যেহেতু ইজতেমা পোলবা–দাদপুর ব্লক এলাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই পোলবা ব্লক হাসপাতালের কর্মীদের ওপর স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্বের চাপ বেশি ছিল।

    ইজতেমা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এখনও পর্যন্ত কোনও বড় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
  • Link to this news (আজকাল)