কোচবিহারে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই আবেগঘন মুহূর্ত। যোগ দিতে কোচবিহারে এসেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সভামঞ্চে বক্তব্য চলাকালীনই নজর কাড়ল একটি ঘটনা। কোচবিহারের এক মহিলা মিঠুন চক্রবর্তীকে ফল খাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। সেই কথা কানে যেতেই মঞ্চ থেকেই জেলা বিজেপির কর্মকর্তাদের জানান, ওই মহিলার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করতে চান।তার পরেই ঠিক হয় সাক্ষাতের সময় ও স্থান। শনিবার, ৩ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কোচবিহারের একটি হোটেলে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করেন ওই মহিলা। সাক্ষাতের পর তিনি জানান, ‘মহাগুরুর সঙ্গে দেখা করে আমি খুবই খুশি।’ সেই সঙ্গে তিনি মিঠুন চক্রবর্তীকে ফল খাওয়ার জন্য এক হাজার টাকা দেন এবং তাঁর সুস্থতা ও আরোগ্য কামনা করেন।
জানা গিয়েছে, ওই মহিলা পেশায় পরিচারিকার কাজ করেন। এর আগেও মিঠুন চক্রবর্তী যখন কোচবিহারে ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য একটি কর্মসূচিতে এসেছিলেন, তখন তাঁকে ১০০ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। সেই পুরনো ঘটনার কথাও উঠে আসে শনিবারের সাক্ষাতে। সাধারণ এক পরিচারিকার এই বারবার সহযোগিতার মধ্যেই যে নিখাদ ভালবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে, তা নিয়েই কথা বলেন মিঠুন চক্রবর্তী।
এ বিষয়ে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “এটাই ভালবাসা।” তাঁর কথায়, বিষয়টি জানতে পেরেই তিনি নিজে থেকে ওই মহিলাকে ডেকে পাঠান। রাজনীতি বা কর্মসূচির বাইরেও মানুষের সঙ্গে এমন আবেগের সম্পর্কই তাঁর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান বলে জানান তিনি। সাক্ষাতের সময় ওই মহিলা ফের মিঠুনের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, অভিনেতা-নেতা তাঁকে আশ্বাস দেন, নিশ্চয়ই আবার দেখা হবে।
কোচবিহারের এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের মধ্যেও চর্চা শুরু হয়েছে। এক দিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি, অন্য দিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন ব্যক্তিগত যোগাযোগ; দু’য়ের মেলবন্ধনই যেন উঠে এল এই ঘটনায়। বিশেষ করে এক পরিচারিকার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বারবার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি অনেকের নজর কেড়েছে।
রাজনৈতিক সভা-মিছিলের ভিড়ের বাইরে দাঁড়িয়ে এই সাক্ষাৎ যেন অন্য ছবি তুলে ধরল। কোনও বড় দাবি বা প্রত্যাশা নয়, শুধুই ভালবাসা আর শুভকামনার প্রকাশ। আর সেই আবেগকে গুরুত্ব দিয়েই মিঠুন চক্রবর্তীর ওই মহিলাকে ডেকে পাঠানো। কোচবিহারের রাজনৈতিক আবহে এই মানবিক মুহূর্ত আলাদা করে নজর কেড়েছে।