জানা গিয়েছে, এই সেতুটি তৈরি হলে কাকদ্বীপের লট-৮ থেকে কচুবেড়িয়া পৌঁছতে ভেসেল বা ফেরির উপর আর নির্ভর করতে হবে না। মুড়িগঙ্গা নদী পারাপারের সমস্যা মিটে যাবে। সেতুটির দৈর্ঘ্য থাকবে প্রায় ৪.৭৫ কিলোমিটার। গঙ্গাসাগরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ গড়ে উঠবে। প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, এই সেতু তৈরি হলে গঙ্গাসাগর পর্যটনে এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
দেশ বিদেশের পর্যটকদের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই স্থানীয় অর্থনীতিও উন্নত হবে ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। আগামী চার বছরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। সেতুটি দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা নিবেদিতা সেতুর আদলে তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে। এই সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড। পূর্ত দপ্তরের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর টানা ১০ বছর সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও এই সংস্থার উপরেই থাকবে।
সেতুটি নির্মাণের জন্য মোট প্রায় ১২.৯৭ একর জমি কিনেছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে কাকদ্বীপ অংশে ৭.৯৫ একর এবং কচুবেড়িয়া অংশে ৫.০১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। শীঘ্রই বাকি প্রায় ১৫ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেতুর শিলান্যাসের পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখবেন।
মেলার পরিকাঠামো, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল ও পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায়কপিলমুনির আশ্রমে পুজো দেওয়ার কথাও রয়েছে তাঁর। চলতি বছরের গঙ্গাসাগর মেলাকে দেশের সামনে ‘মডেল গ্রিন মেলা’ হিসেবে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। প্লাস্টিকমুক্ত মেলাপ্রাঙ্গণ গড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। স্বচ্ছ ও দূষণমুক্ত পরিবেশ বজায় রেখে গঙ্গাসাগর মেলাকে একটি দৃষ্টান্তমূলক ধর্মীয় মেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে রাজ্য।