সাড়ে তিন পাতার চিঠিতে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এগুলির সমাধান না-হলে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এর আগে ২০ নভেম্বর এবং ২ ডিসেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা। শনিবার এই নিয়ে তৃতীয় বার জ্ঞানেশকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি, সার্কুলার বা আইনি নির্দেশ ছাড়াই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ জানানো হয়েছে চিঠিতে। যা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক প্রধান। স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই ধরনের অনিশ্চয়তা ভোটারদের নাম অকারণে বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ভোটারদের নাম ‘ব্যাকএন্ডে’ মুছে ফেলার অভিযোগ করেছেন তিনি। আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের বা ইআরওদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়ায় তাঁদের অনেক ক্ষেত্রেই অন্ধকারে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সমাজ মাধ্যমে চিঠির প্রতিলিপি তুলে ধরে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পোস্টে লিখেছেন- ‘বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে আমার গুরুতর সাংবিধানিক উদ্বেগ প্রকাশ করে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনার শ্রী জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছি। এই প্রক্রিয়াটি পদ্ধতিগত অস্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা রয়েছে। অসঙ্গত নির্দেশিকা, অবিশ্বস্ত আইটি সিস্টেম, অননুমোদিত ব্যাকএন্ড মুছে ফেলা এবং নাগরিকদের, বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ এবং অভিবাসী কর্মীদের, নির্দিষ্ট কারণ বা পর্যাপ্ত সুবিধা ছাড়াই তলব করা হচ্ছে। বৈধ ভোটাধিকার বঞ্চিত এবং বৈষম্যের শিকার হওয়া আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।‘
বিহারে এসআইআরের ক্ষেত্রে বংশতালিকাকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসাবে গ্রহণ করা হলেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বংশতালিকাকে পরিচয়পত্র হিসাবে গ্রহণ না-করার নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। ইআরও-দের অনুমতি ছাড়াই কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে, ইআরও-র অজ্ঞাতে এই কাজ করা যায় না।
গোটা প্রক্রিয়ায় কোনও অবৈধ কাজ হয়ে থাকলে তার দায় কমিশনকেই নিতে হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বুথ লেভেল এজেন্টদের শুনানি প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ায় পুরো ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পর্যবেক্ষক ও মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগেও রাজ্যের প্রস্তাবিত তালিকা উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে দাবি নবান্নের। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে এই ‘ত্রুটিপূর্ণ ও এলোমেলো’ প্রক্রিয়া সংশোধনের আর্জি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এখনই ব্যবস্থা না নিলে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে, যা গণতন্ত্রের মূল কাঠামোর উপর সরাসরি আঘাত।