জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নজরে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট। এ রাজ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়া মহিলাদের এবার 'ঘরবন্দি' করে রাখার নিদান দিলেন বিজেপি নেতা কালীপদ সেনগুপ্ত। তাঁর সাফ কথা, ভোটটা দিতে হবে 'পদ্মফুলে, জোড়াফুলে নয়'। বিতর্ক তুঙ্গে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের বিজেপি নেতা কালীপদ। দলের রাজ্য কমিটিরও সদস্য তিনি। সেই কালীপদের বক্তব্যে একটি ভিডিয়ো এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছে তৃণমূল। যে ভিডিয়োতে সংকল্প সভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে ওই বিজেপি নেতাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, 'এখনও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মায়েরা আছেন, যাঁরা জোড়া ফুলে ভোট দিতে যাবেন, আমি সেই সমস্ত পরিবারের স্বামীদের বলছি, ওই মায়েদের ঘরে বন্দি রেখে দেবেন। ভোটটা দিতে হবে পদ্মফুলে, জোড়া ফুলে নয়।'
এক্স হ্যান্ডেল পোস্টে তৃণমূল লিখেছে, 'প্রথমে বিজেপির কোচবিহার জেলা নেত্রী ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে লক্ষ্মীর ভান্ডার বাতিল করার হুমকি দিয়েছিলেন। তারপর তাদের নেতারা 'ভিক্ষা' বলে উপহাস করেছিলেন, লক্ষ লক্ষ গর্বিত মহিলাকে অপমান করেছিলেন যারা এই অর্থ ব্যবহার করে ঘর পরিচালনা, শিশুদের শিক্ষিত করা এবং ভবিষ্যত তৈরি করেন। এবং এখন বিজেপি মধ্যযুগীয় নারী বিদ্বেষের নতুন গভীরতা অর্জন করেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে বিজেপির "সংকল্প সভায়" তাদের রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্ত প্রকাশ্যে স্বামীদের লক্ষ্মীর ভান্ডার গ্রহণকারী স্ত্রীদের আটকে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা বাইরে বেরিয়ে ভোট দিতে না পারে'।
তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ইতিমধ্যেই SIR কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে যাতে বৈধ বাঙালি ভোটারদের গণহারে মুছে ফেলা যায়। এখন তারা লক্ষ্মীর ভান্ডার সুবিধাভোগীদের ঘরে আটকে রাখতে চায় যাতে তাদের ভোটদান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা যায়। বাংলার গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিজেপির যুদ্ধ এখন বাংলার মা, বোন এবং কন্যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালে, সেই একই "বন্দী" মহিলারা লক্ষ লক্ষ মিছিল করে বিজেপির নারী-বিদ্বেষী, বাংলা-বিরোধী রাজনীতিকে ভোটের তুষারপাতের তলায় চাপা দেবেন'। ভিডিয়োটি শেয়ার করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, 'এই কালীপদবাবু, যিনি নাকি রাজ্য কমিটির সদস্য। রাজ্য কমিটির যদি এই মানসিকতা থাকে, প্রকল্প বন্ধ করে দেব, যাঁরা প্রাপক তাদের বাড়ি থেকে বেরনো বন্ধ করে দেব। তারা যে যাবে ভোটকেন্দ্রে সেই পথটাতেই বাধা তৈরি করতে হবে। বাড়ির দরজা বন্ধ করে দিন। এই যে চরম কথা বলা, তীব্র ভাষা নিন্দা জানাই'।
এই ঘটনায় অবশ্য কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তিনি বলেন, 'এসব কথা বলা মানে মহিলাদের অপমান করা। দল এসব বরদাস্ত করে না। আর লক্ষ্মী ভান্ডার দিয়ে কাউকে দয়া করছে না'।