জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অগণতান্ত্রিক তাণ্ডব'। SIR নিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ফের চিঠি লিখলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। 'এই চিঠিটাকে নির্বাচন কমিশনের ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলা দেওয়া উচিত'. পালটা কটাক্ষ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
নজরে ছাব্বিশ। বাংলায় SIR। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এখন শুনানি চলছে। মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকে লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, 'ভোটারদের নির্দিষ্ট কারণ না-জানিয়েই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। ফলে কোনও কারণ ছাড়়াই ভোটারদের মনে ভয় তৈরি হচ্ছে এবং তাঁরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন'। তাঁর বক্তব্য, খ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, শুনানির সময় কোন কোন নথি লাগবে, তা ভোটারদের জানানো হচ্ছে না। আবার নথি জমা পড়ার কোনও প্রমাণপত্রও শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের দিচ্ছে না কমিশন।
বাংলায় SIR নিয়ে আরও একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেমন, বিহারে বৈধ পরিচয়পত্র গ্রাহ্য হলেও, পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে না, বিজ্ঞপ্তি ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে নিত্যনতুন নির্দেশ, ERO-র অনুমতি ছাড়াই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আবার এমুনারেশন পর্বে BLO সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও, শুনানি তাঁরা ব্রাত্য!
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা দাবি, 'মুখ্যমন্ত্রীর লেটারহেড ব্যবহার করে জ্ঞানেশ কুমারকে লেখাটাই অবৈধ ও অসাংবিধানিক। মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক পদ। মুখ্যমন্ত্রীর লেটারহেড ব্যবহার করা যায় না'। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এই চিঠিটাকে নির্বাচন কমিশনের ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলা দেওয়া উচিত'। তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী বলেন, 'বাংলার মানুষের সঙ্গে যে অসভ্যতামি বিজেপি করল, যে অসভ্যতামি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে করাল। আজও একজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে SIR শুনানিতে। বিজেপি নেতারা বলছে, এটা ভালো হচ্ছে। বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দেবে ভালোটা কাকে বলে! বাংলার মানুষ SIR করবে বিজেপির উপরে। দলটা নাম ও নিশান বাংলার রাজনীতি থেকে মুছিয়ে দেবেন'।
বাংলায় SIR নিয়ে প্রথম থেকেই সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। নভেম্বরেই 'অবিলম্বে SIR বন্ধে'র দাবি জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিককে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে উল্লেখ, 'আমি আপনাকে চিঠি লিখতে বাধ্য হচ্ছি। SIR বিপজ্জনক সীমা পৌঁছে গিয়েছে। যেভাবে SIR করা হচ্ছে, তাতে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করছে, একইসঙ্গে বিপজ্জনকও'।
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছিলেন, 'ন্যূনতম প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ নির্দেশিকার না থাকায় প্রথমদিন থেকে গোটা প্রক্রিয়াটি কার্যত প্রহসনের পরিণত হয়েছে। প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। কী কী নথি লাগবে, তা স্পষ্ট নয়। প্রত্যেকটি ভোটারের সঙ্গে দেখা করাও কার্যত অসম্ভব। এভাবে চলতে থাকতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেবে'।