• কলকাতার পথকুকুর অলকা ‘শান্তির দূত’ হয়ে ঘুরছে আমেরিকার পথে পথে, ১৯ বৌদ্ধ ভিক্ষুর সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে
    আনন্দবাজার | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • টেক্সাস থেকে ওয়াশিংটনের দিকে হেঁটে চলেছে অলকা। সেই ২৬ অক্টোবর থেকে। আর হাঁটতে হাঁটতেই নজর কাড়ছে আমেরিকার নানা প্রদেশের কৌতূহলী মানুষের। বহু জন এগিয়ে গিয়ে ছবি তুলছেন। তুলছেন নিজস্বীও। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে ভিডিয়ো। একাধিক সাইটে খবরও করা হয়েছে অলকাকে নিয়ে। নজরে পড়েছে কলকাতারও।

    এ তো চেনা চেহারা! কলকাতা বা এ রাজ্যের রাস্তায় রাস্তায়, গ্রামে-গঞ্জে এমন চেহারার, এমন রঙের অসংখ্য কুকুরকে ঘুরতে দেখা যায়। খোঁজ নিতে গিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেল, এ কুকুর ভারত থেকেই পাড়ি দিয়েছিল আমেরিকায়। পরে এ-ও জানা গেল, অলকার জন্ম কলকাতার রাস্তায়। জীবনের প্রথম অংশ তার কেটেছে কলকাতার পথে পথেই। আপাতত অলকা পথ পেরোচ্ছে আমেরিকায়। ১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুর সঙ্গে। শান্তির বার্তা ‘পৌঁছে দিতে’।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইজ়রায়েলের গাজ়া দখলের চেষ্টা, বাংলাদেশে অশান্তি কিংবা ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্টকে আমেরিকার অপহরণ— বিশ্ব জুড়ে যখন নানান অস্থিরতার বাতাবরণ, সে সময়ই ভিক্ষুদের সঙ্গে অলকার শান্তিযাত্রা!

    ১৯ জন ভিক্ষু মিলে এখন শান্তি পদযাত্রায় বেরিয়েছেন। ২,৩০০ মাইল হাঁটবেন তাঁরা। টেক্সাস থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা আমেরিকার ১০টি প্রদেশ ঘুরে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। সঙ্গী অলকা! তাঁদের পায়ে পায়ে হেঁটে চলেছে সে। কখনও এগিয়ে যাচ্ছে, আবার কখনও বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বসে পড়ছে রাস্তার মাঝে। তবে হাল ছাড়ছে না। মাঝেমধ্যে গাড়িতে করেও যাচ্ছে।

    অনেকের মনেই প্রশ্ন, কোথা থেকে এল এই কুকুর? কী ভাবে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দলের সঙ্গে জুড়ে গেল সে? বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যমের পেজে দাবি করা হয়েছে, কলকাতার রাস্তায় আর পাঁচটা পথকুকুরের মতোই ঘুরে বেড়াত সে। কারও বাড়িতে আশ্রয় ছিল না। আস্তাকুঁড় থেকে খাবার খেত। কিন্তু হঠাৎই সব বদলে যায়।

    ভারতে ঘুরতে ঘুরতে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ওই দল কয়েক মাস আগে কুকুরটির সঙ্গ পান কলকাতার রাস্তায়। দলটি বুদ্ধগয়া, সারনাথের মতো স্থান পরিদর্শনে ভারতে এসেছিল। ১১২ দিনের পদযাত্রার মধ্যে কলকাতা থেকে তাঁদের সঙ্গে জুড়ে যায় অলকা। গেরুয়া বসনধারীদের সঙ্গে সেই থেকে তার পথচলা!

    অনেকের মন্তব্য, অচেনা পোশাক বা চেহারার ১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে এক সঙ্গে দেখে হয়তো কৌতূহলী হয়ে পড়েছিল অলকা। প্রথমে সেই কৌতূহলের বশেই তাঁদের সঙ্গে হাঁটা শুরু করে। তার পরে আর সঙ্গ ছাড়েনি। ঠান্ডা, গরম— প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে ঘুরছে। প্রথমে অবশ্য তার কোনও নাম ছিল না। ভিক্ষুকেরাই তার নাম দেয় অলকা। পালি ভাষায় এর অর্থ আলো।

    পদযাত্রা শেষ করে ওই ভিক্ষুকেরা যখন ভারত ছাড়ার তোড়জোড় শুরু করেছিলেন তখনও অলকা তাঁদের সঙ্গে ছিল। ভিক্ষুকেরা চাননি তাকে ফেলে রেখে ফিরে যেতে। সঙ্গী করে নেন। তাকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব নিয়ম মানতে তাঁদের আরও এক মাস বেশি সময় লেগেছিল। ওই দলেরই এক সদস্যের কথায়, ‘‘ও এখন আমাদের পরিবারেরই সদস্য। সারা জীবন থাকবে আমাদের সঙ্গে।’’ আর এক ভিক্ষুকের কথায়, ‘‘অলকার কপালের মাঝে যে সাদা রঙের চিহ্ন রয়েছে, তা শান্তির বার্তা বহন করে।’’

    অলকার এখন আর এক নাম ‘শান্তি সারমেয়’!
  • Link to this news (আনন্দবাজার)