• আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে থানাগুলিকে রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
    আনন্দবাজার | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শুনানি-পর্ব চলছে এখন। ওই প্রক্রিয়া শেষ হলেই আশা করা যাচ্ছে, বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তার আগে নতুন বছরের শুরুতে থানাভিত্তিক আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য রিপোর্ট আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন।

    লালবাজারের নির্বাচন সেলের তরফে পাঠানো নির্দিষ্ট ফরম্যাটে কাল, সোমবারের মধ্যে প্রথম রিপোর্ট পাঠাতেবলা হয়েছে থানাগুলিকে। সূত্রের খবর, বিভিন্ন থানার তরফে পাঠানো ২১ পাতার ওই রিপোর্ট সংগ্রহ করে তা একসঙ্গে পাঠানো হবে কমিশনের কাছে। এর পর থেকে প্রতি শুক্রবারের মধ্যে সাপ্তাহিক রিপোর্ট পাঠাতে হবে কলকাতা পুলিশেরথানাগুলিকে। সূত্রের খবর, থানাগুলি ইতিমধ্যেই তাদের এলাকার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে রিপোর্ট লালবাজারের কাছে পাঠাতে শুরু করেছে।

    প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ভোটের দিন ঘোষণা হতে দেরি থাকলেও নির্বাচন কমিশনশান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট করার লক্ষ্যে সব তথ্য হাতে নিয়ে, সেগুলি পর্যালোচনা করে নিজেদের প্রস্তুতরাখতে চাইছে। যাতে ভোটের দিন ঘোষণার পরে ওই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারা যায়।

    লালবাজার সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে থানাগুলিকে তাদের এলাকায় কত বুথ এবং কত ভোট গ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে, তাদের মধ্যে কতগুলি সংবেদনশীল ছিল, তা জানাতে হবে। পূর্ববর্তী ভোটে কোনও ভীত ভোটার ছিলেন কিনা,থাকলে তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, তা-ও লিখিত আকারে জানাতে বলা হয়েছে। সাপ্তাহিক রিপোর্টে স্থানীয় দুষ্কৃতী বা ভোটের সময়ে কোনও গোলমালকারী থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কীব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা-ও জানাতে হবে থানাগুলিকে। পুলিশ সূত্রের খবর, ২১ পাতার ওই রিপোর্টে থানা এলাকায় প্রতি সপ্তাহে কত পরিমাণ অস্ত্র বা বিস্ফোরক উদ্ধার হচ্ছে, কোনও রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা-ও জানাতে হবে। ওই হিংসার ঘটনায় কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং কতগুলি গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হয়েছে, সেই তথ্যও থাকতে হবে বলে সূত্রের খবর।

    পুলিশের একাংশ জানিয়েছে, ভোটের প্রায় দু’-তিন মাস আগে থেকে থানাগুলির কাছে তথ্য বা রিপোর্ট চেয়ে থাকে নির্বাচন কমিশন। এ বারও কিছু দিন আগে পুলিশকর্মী,আধিকারিকদের থেকে তাঁদের ভোটার সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এ বার নিজেদের প্রস্তুত করতে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়েও রিপোর্ট চাইছে কমিশন।

    প্রতিটি থানায় পাঠানো ওই নির্দেশে বলা হয়েছে, ওই সাপ্তাহিক রিপোর্টে কত অস্ত্র বা বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে এবং কত জন গ্রেফতার হয়েছে, তা যেমন জানাতে হবে, তেমনই কত নগদ টাকা বা কত পরিমাণ মদ বাজেয়াপ্ত হল, তা-ও জানাতে বলা হয়েছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)