• ফ্রন্টের চিঠির সঙ্গে সহমত নই, বিবৃতি রেসিডেন্ট ডক্টর্স মঞ্চের
    এই সময় | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের পদত্যাগী সভাপতি অনিকেত মাহাতোকে লেখা ফ্রন্টের চিঠির তীব্র সমালোচনা করল আরজি করের রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন (আরজি কর আরডিএ)। এক প্রেস বিবৃতিতে তাদের অভিযোগ, ফ্রন্টের তরফে সম্প্রতি অনিকেতকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে ভাইরাল। চিঠির নেপথ্যে রয়েছে ফ্রন্টের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা। এবং ওই চিঠির বক্তব্যের সঙ্গে ফ্রন্টের অন্যতম শরিক আরডিএ মোটেই সহমত নয়। এতে ফ্রন্টের ঐক্যে ফাটল গভীরতর হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই প্রতিবাদ ভালোই শোরগোল ফেলেছে চিকিৎসক মহলে। ‘ফ্রন্ট বনাম অনিকেত’ প্রশ্নে এঁরা এখন কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত। অনিকেত নিজেই আরজি কর আরডিএ–র সভাপতি। যে লেটারহেডে সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে, সেই লেটারহেডেই ফ্রন্টের প্রতি বিষোদ্গার করে আরডিএ–র প্রেস বিবৃতি কতটা নৈতিক, স্বাভাবিক ভাবেই সে প্রশ্ন উঠেছে। বিবৃতিতে অবশ্য অনিকেতের সই নেই। এবং তাঁর বক্তব্য, ‘আমি সিনিয়র রেসিডেন্ট পদ (এসআর–শিপ) ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছি। এই অবস্থায় রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বা সদস্য হিসেবে থাকা কিংবা বক্তব্য পেশের নৈতিক অধিকারও আমার নেই। তাই এই প্রেস বিবৃতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করছি না।’

    কী বলা হয়েছে ওই বিবৃতিতে? সেখানে অভিযোগ, সম্প্রতি ফ্রন্টের নামে প্রকাশ্যে যে চিঠি ছড়ানো হয়েছে, তার বক্তব্য আরজি কর আরডিএ-র অবস্থানের পরিপন্থী। ফ্রন্টের সভাপতি পদ কিংবা এসআর–শিপ ছাড়ার সিদ্ধান্ত একান্তই অনিকেতের ব্যক্তিগত। সম্প্রতি এসআর–শিপ ছাড়া নিয়ে সমালোচনায় পড়েছেন অনিকেত। এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়েছে — পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিছকই ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায্য, স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। অথচ ফ্রন্টের চিঠিতে বিষয়টিকে অন্য খাতে বইয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছে।

    আরডিএ-র বক্তব্য, ওই চিঠিতে যে ভাবে তাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তা অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিতবাহী। এটি বৃহত্তর আন্দোলনের আদর্শ ও লক্ষ্যের পরিপন্থী এবং ব্যক্তিগত লাভ বা অবস্থান মজবুত করার চেষ্টারই অংশ। বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আরজি কর আরডিএ কখনও কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ, পদ বা সুবিধে আদায়ের জন্য আন্দোলনে নামেনি। সংগঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সমষ্টিগত আলোচনা ও আন্দোলনের নৈতিক অবস্থান পুরোদস্তুর বজায় রেখে গৃহীত।

  • Link to this news (এই সময়)