• ধুলো তাড়াতে মিলছে না জলের গাড়ি, অভিযোগ কাউন্সিলারদের
    এই সময় | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • দেবাশিস দাস

    শুরুটা হয়েছে গত বছরের শেষে, তার পরে এখন, নতুন বছরের শুরুতেও জাঁকিয়ে শীত। কিন্তু এই আবহাওয়ায় কলকাতার রাস্তায়, পার্কে, ডিভাইডারের গার্ডওয়ালে, বাড়ির দেওয়ালে আর গাছের পাতায় ধুলোর পুরু আস্তরণ। ঘন কুয়াশায় রাস্তায় হাঁটতে, পার্কে প্রাতর্ভ্রমণ ও সান্ধ্যভ্রমণে অসুবিধে হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষের। ধুলো আর কুয়াশা মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন যে, অনেকেই বাড়ি থেকে বেরনোর সময়ে ফের মুখ ঢাকতে বাধ্য হয়েছেন মাস্কে। চিকিৎসকরাও সে রকমই পরামর্শ দিচ্ছেন। কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলারদের অনেকেই জানাচ্ছেন, পার্ক ও রাস্তার ধুলো হটানোর জন্য মিলছে না জলের গাড়ি এবং অন্যান্য যন্ত্র। পুরসভার আগের অধিবেশনে উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের কাছে দেশবন্ধু পার্ক সংলগ্ন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার ও শিশু চিকিৎসক মীনাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায় ওই অভিযোগ তোলেন।

    ধুলো সরাতে কলকাতা পুরসভা ৮৪ কোটি টাকা খরচ করে স্বয়ংক্রিয় ৪০টি মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সব যন্ত্রের কয়েকটি ঝাঁট দিয়ে ধুলো তাড়াবে, অন্যগুলো জল ছেটাবে ধুলো তাড়াতে।

    কলকাতার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের অভিযোগ, বরো ভিত্তিক জলের গাড়ি না–থাকায় ধুলো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করা যাচ্ছে না। জল–ই পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত পরিমাণে। ওই ওয়ার্ডে ৫৮ বিঘা জমি জুড়ে রয়েছে দেশবন্ধু পার্ক। ধুলো কমাতে পারলে কুয়াশাও কমবে এবং তার জন্য কাউন্সিলার মীনাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায় ওই জায়গায় এই শীতের সময়ে পুরসভার জলের গাড়ি রোজ রাখার দাবি জানিয়েছেন। কলকাতা পুরসভার একাধিক কর্তা বলছেন, ‘কুয়াশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এই আবহাওয়ায় পার্ক ও রাস্তায় রোজ জল দেওয়ার কথা, সেই সঙ্গে ঝাঁট দিয়েও ধুলো তাড়াতে হবে।’ শীতে কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যায়, তবে ধুলোর আস্তরণ সরাতে পারলে তুলনামূলক ভাবে কম হয় ওই সমস্যা। তাতে একদিকে যেমন যানবাহন চলাচলে সুবিধে হয় ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে, তেমনই শ্বাসকষ্টের সমস্যায় এই সময়ে যাঁরা ভুগছেন, তাঁদেরও সমস্যার সুরাহা হয় অনেকটা।

    তবে তৃণমূলেরই বেশ কয়েক জন কাউন্সিলার জানাচ্ছেন, শীতে ধুলো দমনের জন্য বরো ভিত্তিক কোনও ব্যবস্থা পুরসভার না–থাকার ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ওই কাজের দায়িত্বে থাকা একাধিক পুর–অফিসার অবশ্য জানাচ্ছেন, ধুলো দমনের জন্য বরো বা ওয়ার্ড ভিত্তিক ব্যবস্থা নেই ঠিকই, তবে এ ক্ষেত্রে যতগুলো যন্ত্র পুরসভার কাছে আছে, তা দিয়েই পরিস্থিতি সামলানোই যায়।

    কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, ধুলো নিয়ন্ত্রণে অধিকাংশ যন্ত্রের আকার বড়, সেগুলো গলিপথে ঢুকতে পারে না। যে কারণে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভিতরে, পাড়ায়–পাড়ায় ধুলোর সমস্যা বেশি। নতুন যে সব যন্ত্র কেনা হবে, সেগুলোর মধ্যে ধুলো তাড়ানোর ছোট আকারের যন্ত্রও রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)