মুম্বই: বৃহন্মুম্বই পুরনিগম (বিএমসি) নির্বাচনের জন্য একসঙ্গে লড়াইয়ের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) প্রধান উদ্ধব থ্যাকারে এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) সুপ্রিমো রাজ থ্যাকারে। রবিবার একসঙ্গে নির্বাচনি ইস্তেহার প্রকাশ করলেন দুই ভাই। সেখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকারকেও আক্রমণ করলেন তাঁরা। এদিন রাজ বলেন, ‘কেউ সারা জীবনের জন্য ক্ষমতায় থাকে না। ওরা যদি মনে করে কেউ সরকার থেকে সরাতে পারবে না, তাহলে নতুন করে ভাবা উচিত। আমি বহুদিন ধরেই বলে আসছি, ওরা মহারাষ্ট্রকে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার বানিয়ে দিয়েছে।’ রাজ্যে আসন্ন পুরভোটে বেশ কিছু আসনে শাসক জোটের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিয়েও কটাক্ষ করেছেন এমএনএস প্রধান। এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন তিনি। রাজ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চলে গিয়েছিল বিজেপি। এখন বিনা লড়াইয়ে মহাযুতির প্রার্থীদের জয়ের বিষয়ে একই দল কী ভাবছে জানতে চাই।’
উদ্ধবও এদিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শাসক জোটের প্রার্থীদের জয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এদিন বলেন, ‘ভোট চুরির পর এবার ওরা প্রার্থী চুরি করছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের যদি সাহস থাকে, তাহলে যে সব আসনে শাসক জোটের প্রার্থীরা বিনা লড়াইয়ে জিতেছেন, সেখানে নতুন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করুক।’ জেন-জি ভোটারদের মতপ্রকাশে বিজেপি ও তার জোটসঙ্গীরা বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন উদ্ধব। নির্বাচনি ইস্তেহার ‘বচন নামা’য় শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) ও এমএনএস জোট জানিয়েছে, তারা পুরনিগমের ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পরিবহণ ও শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও জোর দেবে। বাসভাড়া ১০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ টাকা এবং পরিচারিকা হিসেবে কর্মরত মহিলারা জন্য ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, শনিবার ভোট প্রচারে বেরিয়ে উদ্ধব ও রাজের জোটকে আক্রমণ করেছিলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে। তাঁর অভিযোগ, মারাঠিদের প্রতি দুই ভাই যে ভালোবাসা দেখাচ্ছেন, তার পুরোটাই ভুয়ো। বিএমসির মাধ্যমে টাকা লুটের জন্যই ভোটে জিততে চান দুজনে।