• দিল্লি বিস্ফোরণ: ভূতুড়ে সিম দিয়ে পাক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলত জঙ্গিরা
    বর্তমান | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: ফোনে দু’টি সিম। একটি নিজের নামে। অন্যটি বেআইনি। অন্য কোনও ব্যক্তির আধার কার্ডের তথ্য চুরি করে সিম কার্ড তোলা হত। কিংবা দু’টি ফোন। একটির ব্যহার হত ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। দ্বিতীয়টি ‘সন্ত্রাসের’ কাজে। সেটি ব্যবহার করেই পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের যোগাযোগ রাখত অভিযুক্তরা। অনেক ক্ষেত্রে সিমও ব্যবহার করা হতো না। শুধু নম্বর দিয়েই হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যালের মতো এনক্রিপটেড অ্যাপে লগইন করে নিত হোয়াইট কলার মডিউলের জঙ্গিরা। গত বছর নভেম্বরে লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে এমনই চাঞ্চল‌্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তারপরই এধরনের ভূতুড়ে সিমের ব্যবহার বন্ধে তৎপর হয়েছে ভারত সরকার। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশনস (ডিওটি)। বলা হয়েছে, মোবাইলে অ্যাক্টিভ সিম থাকতে হবে। একমাত্র সেই নম্বর ব্যবহার করেই এনক্রিপটেড অ্যাপগুলি চালানো যাবে। 

     লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে মুজাম্মেল, আদিল সহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারীরা। তাদের মোবাইল ফোন সহ অন্যান্য ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তা খতিয়ে দেখেই ‘ভূতুড়ে সিমের’ হদিশ মিলেছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি জানতে পেরেছে, গোয়েন্দা নজর এড়াতে দু’টি ফোন ব্যবহার করত অভিযুক্তরা। একটি নিজের নামে। সেটি দিয়েই সমস্ত ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজকর্ম করত। অন্যটি সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের জন্য ব্যবহৃত হত। সেই ফোনে শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যালের মতো অ‌্যাপ থাকত। সেগুলির মাধ্যমে উকাসা, ফৈজান, হাশমি কোডনেম দিয়ে পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত অভিযুক্তরা। সাধারণ কোনও নিরাপরাধ ব্যক্তির আধার তথ্য হাতিয়ে সিম তোলা হত। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য সেই নম্বর কাজে লাগাত জঙ্গিরা। তদন্তে নেমে এধরনের একাধিক র‌্যাকেটের খোঁজ পেয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। এই প্রবণতায় চিন্তিত কেন্দ্রীয় এজেন্সিও। কারণ দেখা যাচ্ছে, সিম ছাড়াই এধরনের কিছু নম্বর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার মাধ্যমেই নাশকতার ছক, বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ চলছে। 

     এ সমস্যা মেটাতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্ট ২০২৩ ও টেলিকম সাইবার সিকিউরিটি বিধি জারি করা হয়েছে। এর অধীনে ৯০ দিনের মধ্যে সমস্ত টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে টেলিকমিউনিকেশন আইডেনটিফায়ার ইউজার এনটিটিজ (টিআইইউইএস) সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রক। এই নিয়ম কার্যকরা হলে কোনও ফোনে সিম না থাকলে ওই নম্বর ব্যবহার করে কোনও অ্যাপ ইনস্টল করা যাবে না। জম্মু-কাশ্মীর সার্কেলে দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে মোদি সরকার।  
  • Link to this news (বর্তমান)