গ্রহণযোগ্য হবে না ডোমিসাইল সার্টিফিকেট, শুনানির মাঝেই তুঘলকি সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের
বর্তমান | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআরের শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর প্রমাণপত্র হিসাবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন বহু ভোটার। সেইসব শংসাপত্র আর প্রমাণ্য নথি বলে গ্রহণযোগ্য হবে না! কমিশন সূত্রে এমনটাই খবর। আর শুনানি চলার মাঝে নির্বাচন কমিশনের এমন তুঘলকি সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়তে চলেছেন লক্ষাধিক ভোটার।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা আত্মীয়ের নাম না থাকা নো-ম্যাপ ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠিয়েছিল কমিশন। বলা হয়েছিল, কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে যে কোনও একটি নথি জমা দিয়ে নিজেকে ভারতীয় ভোটার হিসাবে প্রমাণ করতে হবে শুনানিতে ডাক পাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে। ১৩টি নথির মধ্যে একটি নথি হিসাবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জারি করা স্থায়ী ঠিকানা বা বাসস্থান সংক্রান্ত শংসাপত্রকে মান্যতা দিয়েছে কমিশন। তাই বহু ভোটার শুনানিতে গিয়ে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন। তা জমা নেওয়াও হয়েছে। প্রথমে কমিশন জানিয়েছিল, এই সমস্ত সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য কি না, তা যাচাই করবেন জেলাশাসক বা ডিইওরা। এমনকি এই সার্টিফিকেট কোন আধিকারিক স্তরে ইস্যু করা হয়, তা জানতে রাজ্যকে চিঠি লিখেছিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। সেই চিঠির জবাবে রাজ্য জানিয়েছিল, ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষমতা দেওয়া ছিল জেলাশাসকদের হাতে। তারপর এই শংসাপত্র ইস্যু করেন এডিএম অর্থাৎ অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং মহকুমা শাসক বা এসডিও। ঘটনাচক্রে এসডিওরাই এসআইআর পর্বে ইআরওর দায়িত্ব পালন করছেন। রাজ্যের তরফে এই চিঠি পাওয়ার পরই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা জানতে চেয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল সিইও অফিস। সূত্রের খবর, সেই চিঠির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এক্ষেত্রে প্রমাণ্য নথি হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। কমিশনের এহেন সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চিত হয়ে গেল বহু ভোটারের ভাগ্য। কিন্তু কমিশনের যুক্তি, রাজ্যের জারি করা স্থায়ী ঠিকানা বা বাসস্থান সংক্রান্ত শংসাপত্র বলতে যা বোঝায়, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট তা নয়। ফলে এক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য নথি বলে গণ্য হতে পারে না। কমিশন নির্ধারিত ওই ১৩টি নথির বাইরে অন্য নথি জমা নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে বলে খবর। যাঁরা শুনানিতে গিয়ে ইতিমধ্যেই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন, তাঁদের ফের শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট এবং কুলপিতে রোল অবজারভার সি মুরুগানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে ৬ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে ডিজিকে। এছাড়াও এই ঘটনাকে পুলিশ-প্রশাসনের গুরুতর ব্যর্থতা হিসাবে ব্যাখ্যা করে, যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।