নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, দার্জিলিং: আবহাওয়াবিদরা আশার কথা বেশ কয়েকদিন ধরেই শোনাচ্ছিলেন। পাহাড়ে পারদ হিমাঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও তুষারপাত হচ্ছিল না। অনেক আশা নিয়ে ঘুরতে গেলেও কিছুটা হতাশ হতে হচ্ছিল পর্যটকদের। কিন্তু নতুন বছরের তৃতীয় দিনেই সেই হা-হুতাশ মিটেছে। শনিবার বিকেল থেকেই সান্দাকফুতে শুরু হয়েছিল হাল্কা তুষারপাত। রবিবার সকাল হতেই গোটা এলাকা সাদা বরফের চাদরে মুড়েছে। স্বভাবতই চওড়া হাসি পর্যটকদের মুখে।
এদিকে পাল্লা দিয়ে নেমেছে পারদও। এদিন দার্জিলিং পাহাড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইসঙ্গে ঠান্ডায় জবুথবু উত্তরবঙ্গের সমতলভাগ। সঙ্গে কুয়াশার দাপট। আরও দু’দিন পাহাড়ে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি, তুষারপাতের পাশাপাশি সমতলেও ঠান্ডা ও কুয়াশার দাপট থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, পশ্চিমীঝঞ্ঝার জেরেই এই পরিস্থিতি। দার্জিলিং পাহাড়ের উঁচু উপত্যকাগুলির মধ্যে নেপাল সীমান্তবর্তী সান্দাকফু অন্যতম। ‘ঘুমন্ত বুদ্ধ’ কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং এভারেস্টের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশ-রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে আসেন পর্যটকরা। শনিবার বিকেলের পর কিছুক্ষণের জন্য সান্দাকফু ও ফালুটে তুষারপাত হয়। খবর চাউর হতেই রবিবার সকালেই সান্দাকফুর উদ্দেশে রওনা হন পর্যটকরা। রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ ওই এলাকায় তুষারপাত শুরু হয়। নিমেষের মধ্যে গাছের পাতা, রাস্তা, ঘাস ঢেকে যায় বরফে।
এদিন শৈলশহর দার্জিলিংয়ে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই দার্জিলিং পাহাড়ের সর্বনিম্ন তামপাত্রা ঘোরাঘুরি করছিল ৩-৪ ডিগ্রির আশপাশে। এদিন পাহাড়ে রাজভবন ও সেন্ট জোসেফ কলেজ চত্বরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল, যথাক্রমে ১.৮ ও ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা বলেন, আরও দু’দিন পাহাড়ে বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের সমতলভাগ শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে এদিন হাড়কাঁপুনি ঠান্ডা। রবিবার দুপুরে একঝলক সূর্যের দেখা মিললেও দিনের অধিকাংশ সময় ছিল কুয়াশায় ঢাকা। সঙ্গে উত্তুরে হাওয়া।