সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ডাকপার্টির লোকজনের তাড়া খেয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল পেঁয়াজবোঝাই লরি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনের দিক থেকে আসা টোটোয় ধাক্কা মারল লরিটি। ঘটনায় টোটোচালক সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের নাম কামালউদ্দিন শেখ (৪৩) ও সিটু শা(৩৬)। গুরুতর জখম অবস্থায় টোটোর আর এক যাত্রী রামপুরহাট মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার জেরে রবিবার রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪নম্বর জাতীয় সড়কে নলহাটির পালোয়ান বাবার মাজারের কাছে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার বাসিন্দারা একজনের মৃতদেহ ফেলে রেখে অবরোধ ও তুমুল বিক্ষোভ শুরু করে। যার জেরে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। পুলিশ মৃতদেহ তুলতে গেলে অবরোধকারীদের সঙ্গে ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, রামপুরহাট এসডিপিও সহ প্রচুর র্যাফ এসে লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা ইট, পাটকেল ছুড়তে থাকে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশও তাড়া করে তাদের লাঠি দিয়ে মারধর করে। অবশেষে ঘণ্টাদুয়েক পর সড়ক অবরোধমুক্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টোটোয় বাছুর চাপিয়ে নলহাটির গোপালপুর হাটে বিক্রি করতে গিয়েছিলেন তেজহাটি গ্রামের চালক কামালউদ্দিন শেখ ওরফে মেন্টার ও লাগোয়া হাজারপুর গ্রামের সিটু ও তাঁর জামাইবাবু সেজাউল শা। তিনটি বাছুর বিক্রি না হওয়ায় সেগুলি ফের টোটোয় চাপিয়ে জাতীয় সড়ক ধরে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। দুপুর ২টো নাগাদ নলহাটির পালোয়ানতলার কাছে সামনের দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি পেঁয়াজবোঝাই লরি টোটোয় ধাক্কা মেরে চলে যায়। টোটোটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সিটুর মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বাকি দু’জনকে উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিকেলে পাঠান। যদিও সেখানে চিকিৎসক কামালউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। সেজাউল সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনাস্থলে প্রচুর মানুষ জড়ো হন। তাঁরা এই দুর্ঘটনার জন্য ডাকবাবুকে দায়ী করে সিটুর দেহ ফেলে রেখে বিক্ষোভ ও অবরোধ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, টাকা না দেওয়ায় ডাকবাবুর লোকজন পেঁয়াজভর্তি লরিটি তাড়া করছিল। পালোয়ানতলায় পিকনিক পার্টির ভিড় ছিল। এরই মধ্যে লরিটি দ্রুতগতিতে পালাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ডাকবাবুকে এখানে হাজির করাতে হবে। ডাকপার্টির জন্য প্রায়শই দুঘর্টনা ঘটছে। ঘটনাস্থলে আসা লাগোয়া কুরুমগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মিন্নার আলি বলেন, ডাকপার্টির হাত থেকে বাঁচতে লরিটি দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোটোয় ধাক্কা মারে। আমরা ডাকবাবু ও তার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি চাই।
খবর পেয়ে মৃতদেহ তুলতে এলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে রামপুরহাট থেকে র্যাফ এসে লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল ছুড়তে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতা। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে পালিয়ে যায় সকলে। এরপরই পুলিশ দেহটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে মেডিকেলের মর্গে পাঠায়। কান্নায় ভেঙে পড়ে মৃত টোটোচালকের পবিবার। তাঁর ভাইপো রাহুল শেখ বলেন, কাকা পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ছিল। বাড়িতে কাকার দুই নাবালক সন্তান রয়েছে। পুরো পরিবার অথৈ জলে পড়ল। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, লোহাপুরের কাছে রাস্তা আটকে লরি সহ চালককে ধরা হয়েছে। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।