পঁচাশি ঊর্ধ্ব ও অসুস্থরা আবেদন জানালে শুনানি হবে বাড়িতেই
বর্তমান | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: এসআইআর-এর শুনানি পর্বে প্রবীণঅসুস্থ ভোটারদের আর কেন্দ্রে আসতে হবে না। কমিশনের এই নির্দেশিকার পর ঝাড়গ্রামের বহু প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তি স্বস্তিবোধ করছেন। কারণ জঙ্গলমহলেরএই জেলার প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের শুনানি কেন্দ্রে আসতে গিয়ে চরম হয়রানির মধ্যে পড়তে হচ্ছিল।
ঝাড়গ্রাম শহর বাদে বেশিরভাগ এলাকা জঙ্গল, পাহাড় ও নদী,খালে ঘেরা। প্রত্যন্ত এলাকার গ্ৰামবাসীদের গ্ৰামীণ রাস্তা পেরিয়ে মূল সড়কে আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। সেখান থেকে গাড়ি ধরে বাজার, প্রশাসনিক অফিস ও হাসপাতালে তাঁদের পৌছাতে হয়। এসআইআরের শুনানি পর্বে প্রবীণ ব্যক্তিদের জেলা কালেক্টরেট,মহকুমা প্রশাসন ভবন ও ব্লক অফিসে আসতে হচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুনানি কেন্দ্রে আসতে হচ্ছে তাঁদের।বিনপুর -২ ব্লকের মতো এলাকায় রাস্তায় যানবাহন বেশ কম চলাচল করে। সেক্ষেত্রেভোটারদের গাড়ি ভাড়া করে শুনানি কেন্দ্রে আসতে হচ্ছে। যার জেরে প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম সমস্যায় পড়ছেন।
বিনপুর -২ ব্লকের বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অশীতিপর মন্মথনাথ শীট বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী গত শনিবার অসুস্থ শরীর নিয়েই শুনানি কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়।কমিশন বিষয়টি নিয়ে আগে ভাবেনি। ৮৫ বছরের ঊর্দ্ধে থাকা ব্যক্তিরা আবেদন করলে তাঁদের বাড়িতেই শুনানি করার নির্দেশিকাদেওয়া হয়েছে। গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের আলমপুরের ভট্টগোপালপুর গ্ৰামের বাসিন্দা উজ্বল সাউ বলেন, ৭৫ বছরের অসুস্থ বাবাকে গাড়ি ভাড়া করে সোমবার শুনানি কেন্দ্রে যেতে হয়েছে।বাবার নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল। তিনি আবার জনপ্রতিনিধিও ছিলেন।রাস্তার মধ্যে বাবার কিছু হলে তার দায় কিন্তু কেউ নিত না।
বেলপাহাড়ীর কুয়ালাপালের ৩১ নম্বর বুথের বিএলও রমেশ মান্ডি বলেন, এই বুথের পাশের রাজ্য থেকে আসা বিবাহিত মহিলারাই শুনানিতে ডাক পেয়েছেন।জঙ্গলের অনেকটা পথ পেরিয়ে তাঁদের শুনানি কেন্দ্রে যেতে হবে। বাড়ির সদস্যদের নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে।
আবার ঝাড়গ্রাম বিধানসভার ২২০ নম্বর বুথের বিএলও সঞ্জীব চক্রবর্তী বলেন, বুথের ৩৫ জনকে৩ জানুয়ারি শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জন অসুস্থ রয়েছেন।বাড়ি গিয়ে তাঁদের আবেদন কীভাবে করতে হবে,তা ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে।
ঝাড়গ্ৰাম বিধানসভার ১৩৫ নম্বর বুথের বিএলএঅশোক মাহাত বলেন, এই এলাকার বেশ কিছু লোধা, শবরদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। প্রতিদিন এরা জঙ্গলে কাঠ সংগ্রহ করতে যান। শুনানি কেন্দ্রে এদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থার জন্যবিএলওকে বলেছি। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, কমিশনের নির্দেশ মিলেছে।বিএলওদের কাছে সেই নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুনানি প্রক্রিয়ায় ডাকা হয়েছে এমন ৮৫ বছরের ঊর্দ্ধে থাকা অসুস্থ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট বিএলওবা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (ইআরও) কাছে বাড়িতে শুনানির জন্য আবেদন করতে পারবেন।