ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ, ৯৭ লক্ষ খোয়ালেন বহরমপুরের বাসিন্দা
বর্তমান | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের নাম করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল ভুয়ো সংস্থা। আর সেই ফাঁদে পা দিয়ে ৯৭লক্ষের বেশি টাকা খোয়ালেন বহরমপুরের এক ব্যক্তি। অতিরিক্ত রিটার্নের লোভে ওই ভুয়ো কোম্পানিতে তিনি টাকা রেখেছিলেন। সেই সঙ্গে বেলডাঙার এক দিনমজুর সাইবার প্রতারণায় লক্ষাধিক টাকা হারিয়েছেন। দু’টি ঘটনাতেই পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে।
বহরমপুরের ওই বাসিন্দা ফেসবুকে একটি বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেখেন। তাতে মোটা টাকা রিটার্নের লোভ দেখানো হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটি সত্যিই কোনও বিনিয়োগকারী সংস্থার ভেবে তিনি নিজের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৯৭লক্ষ ৩৩হাজার টাকা ওই কোম্পানির কাছে জমা করেন। কিন্তু, পরে তিনি টাকা রিটার্ন চাইলে ওই সংস্থার কর্মীরা আরও টাকার দাবি জানায়। এতেই ওই ব্যক্তির মনে সন্দেহ হয়। বাস্তবে ওই সংস্থা সঠিকভাবে টাকা বিনিয়োগ করেনি মনে করে তিনি সাইবার থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থা শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। অতিরিক্ত রিটার্নের লোভে অনেকেই সেই পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন। প্রথমে তাঁদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ঢুকিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। তারপর সেখান থেকে বারবার ‘বিনিয়োগ’ করার জন্য উৎসাহ দেওয়া চলছে। ওই গ্রুপে অন্য উপভোক্তাদের লাভের স্ক্রিনশটও শেয়ার করা হচ্ছে। তা দেখে লোভে পড়ে অনেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা এই ভেবে স্বস্তিতে থাকছেন যে, ভালো কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু, পরে টাকা ফেরত চাইলে প্রতারকরা তা দিতে অস্বীকার করছে। তখনই তাঁরা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারছেন। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, মানুষকে বারবার সচেতন করার পরেও তাঁরা প্রতারণার ফাঁদে পা দিচ্ছে। একটু সচেতন থাকলেই এধরনের প্রতারকদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
বেলডাঙায় এক দিনমজুরের অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিল সাইবার প্রতারকরা। প্রথমে তারা ওই দিনমজুরের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি মেসেজ পাঠায়। তাতে লেখা ছিল, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০০৫টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। সেই সময় তাঁর মোবাইলে পরপর কয়েকটি ওটিপি ঢোকে। প্রতারকরা সমস্ত টাকা তুলে নিতে পারে, এই ভয়ে ওই দিনমজুর অন্য একটি অ্যাকাউন্টে ৯৫হাজার টাকা সরিয়ে রাখেন। এরপর ব্যাংকের কর্মী পরিচয় দিয়ে প্রতারকরা ওই দিনমজুরকে ফোন করে। তাঁর বিশ্বাস অর্জনের জন্য এক প্রতারক ভিডিওকল করে নিজেকে ব্যাঙ্কের ম্যানেজার বলে পরিচয় দেয়। ওই দিনমজুরকে বলা হয়, অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। প্রতারকদের পাঠানো লিঙ্ক থেকে ওই অ্যাপ ডাউনলোড করামাত্রই ওই দিনমজুরের অ্যাকাউন্ট থেকে ১লক্ষ ৮হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। এরপরই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের সাইবার থানা অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।