শান্তিপুরে কুয়াশার জন্য ৩ ঘণ্টা বন্ধ রইল একাধিক ঘাটের ফেরি চলাচল
বর্তমান | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কুয়াশার চাদরে মুড়ল বছরের প্রথম রোববার। যার জেরে ব্যাহত হয় নদীয়া থেকে হুগলি এবং বর্ধমানগামী ফেরি পরিষেবা। সকালে প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে ফেরি পারাপার। বছরের প্রথম রবিবারে পিকনিকে বেরিয়ে হয়রান মানুষ। কুয়াশা কাটলে প্রায় বেলা দশটা নাগাদ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় পরিষেবা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুর থেকে নৃসিংহপুর-কালনা রুটে এবং শান্তিপুর থেকে গুপ্তিপাড়া রুটে ফেরি চলাচল করে। যেহেতু গঙ্গার পশ্চিম প্রান্তের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম বলতে একমাত্র নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ সেতু এবং কল্যাণীর ঈশ্বর গুপ্ত সেতু, তাই বাড়তি দূরত্বের কারণে রানাঘাট-শান্তিপুর সংলগ্ন এলাকার অধিকাংশ গাড়ি ও নিত্যযাত্রী শান্তিপুরের ফেরি সার্ভিস ব্যবহার করে। রবিবার অফিস কাছারি না থাকলেও, প্রথম ছুটির দিন হওয়ার কারণে ভিড় ছিল ভালই। বিশেষত বর্ধমান এবং হুগলি থেকে নদীয়ায় চড়ুইভাতি করতে আসা মানুষের সংখ্যা ছিল প্রতি বছরের মতোই। কিন্তু সাত সকালে ঘুরতে বেরিয়ে মাথায় হাত পর্যটকদের। হয়রান নিত্যযাত্রীরাও। নরসিংহপুর-কালনা রুটে ঘন কুয়াশার কারণে ভোর থেকেই বন্ধ ছিল ফেরি পরিষেবা। ফেরির পাশাপাশি বন্ধ ছিল ভেসেলও। নিত্যযাত্রী এবং অন্যান্য কাজে আসা মানুষদের তাই দীর্ঘ পথ ঘুরে পৌঁছতে হয় গন্তব্যে। শান্তিপুরের বাসিন্দা হেমন্ত লস্কর বলেন, আমি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। রবিবার আমার ছুটি থাকে না। প্রতিদিনের মতো এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চ চলছে না। স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হবে। এতে ভোগান্তি তো হবেই। কিন্তু কিছু করার নেই। একইভাবে সমস্যায় পড়েন রানাঘাটের অর্পণ বিশ্বাস, পরিমল বিশ্বাস, সুদীপ সরকারের মতো নিত্যযাত্রীরা। বেলা প্রায় সাড়ে ন’টা নাগাদ পরিষেবা চালু হয় কালনাঘাটে। তার প্রায় আধঘণ্টা আগে পরিষেবা স্বাভাবিক হয় গুপ্তিপাড়া ঘাট থেকেও। তবে ভেসেল বন্ধ থাকায় ধরা পড়েছে বিপদ ছবি। কর্মক্ষেত্রে যেতে দায়বদ্ধ মানুষদের একটা বড় অংশকে দেখা গিয়েছে গঙ্গায় মাছ ধরার ছোট ছোট নৌকয় নদী পার করতে। যাতে বিপদ ঘটতে পারত। ঘন কুয়াশায় গঙ্গায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও তা ঠেকানোর মতো প্রশাসনিক তৎপরতা নজরে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিত্যযাত্রীদের একাংশ ক্ষুব্ধ। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, যাত্রী নিরাপত্তার জন্য ভেসেল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ মাছ ধরার নৌকা ব্যবহার করে পারাপার করছিলেন কি না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এতে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। -নিজস্ব চিত্র