• কার্তিক মহারাজ গো ব্যাক পোস্টারে ছয়লাপ বিষ্ণুপুর
    বর্তমান | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: আজ, সোমবার বিষ্ণুপুরে আসবেন কার্তিক মহারাজ। তার আগে বিষ্ণুপুর শহর ‘গো ব্যাক’ লেখা পোস্টারে ছয়লাপ হলে। এদিন সকালে শহরের বিভিন্ন দেওয়ালে ওই পোস্টার দেখা যায়। তাতে লেখা রয়েছে, ‘দাঙ্গাবাজ ও ধর্ষক ব্যক্তির স্থান নয় বিষ্ণুপুর। কার্তিক মহারাজ গো ব্যাক।’ পোস্টারের তলায় লেখা রয়েছে, সিপিআই(এমএল) লিবারেশন। ওই পোস্টার পড়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। 

    সিপিআইএমএলের রাজ্য কমিটির সদস্য ফারহান খান বলেন, কার্তিক মহারাজ ইতিপূর্বে যেখানে সভা করেছেন, সেখানেই অশান্তি হয়েছে। তিনি ধর্ষণে অভিযুক্ত। এরকম একজন ব্যক্তিকে এনে সভা করা হচ্ছে। আমরা দলের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি। শহরে পোস্টারিং করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বোঝানো চলছে। এছাড়াও শহরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আমরা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছেও চিঠি পাঠাচ্ছি। 

    কার্তিক মহারাজের সভার আয়োজকদের পক্ষে নিরজ কুমার বলেন, যাঁরা পোস্টার সাঁটিয়েছেন, তাঁদের হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান নেই। মন্দির নগরী বিষ্ণুপুরে যে কোনও ব্যক্তির আগমনে কোনও বাধা নেই। আর একজন পদ্মশ্রী প্রাপ্ত স্বামীজির বিরুদ্ধে যাঁরা এরকম কুমন্তব্য করেন, তাঁদের বোধবুদ্ধি নেই।  স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর হিন্দু একতা পরিষদের পক্ষ থেকে আজ সোমবার দুপুর আড়াইটায় শহরের ন্যাশনাল ক্লাবের মাঠে একটি হিন্দু মহা সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেই প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকবেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজ স্বামী প্রদীপ্তানন্দ। যিনি কার্তিক মহারাজ নামে পরিচিত। কয়েক মাস আগে তাঁর বিরুদ্ধে এক মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। যা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। কার্তিক মহারাজকে বিষ্ণুপুরে এনে সভা করানোর পিছনে রাজনৈতিক মদত থাকতে পারে, এমনও অনেকে মনে করছেন। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব ওই সভার আয়োজক নয় বলে জানিয়েছে। তবে ওই সভার আয়োজক হিন্দু একতা পরিষদের কর্মীরা বিতর্কিত পোস্টার নিয়ে মোটেই বিচলিত নন বলে জানিয়েছেন। 

    আয়োজকরা বলেন, আমাদের সমাবেশের সমস্ত প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। কার্তিক মহারাজ দুপুর আড়াইটায় নির্দিষ্ট সময়েই বক্তব্য রাখবেন। কিছু মানুষ একটি দলের নাম করে হিন্দু ধর্মের বিরোধিতা করার জন্যই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পোস্টার সাঁটিয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করব। কার্তিক মহারাজের ওই সভা কোনও রাজনৈতিক মদতে হচ্ছে না। সনাতনীদের মধ্যে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে ব্যাখা সহ বিস্তারিতভাবে জানানো জন্য সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ওই সভায় হিন্দু ধর্মের প্রচুর মানুষের সমাগম হবে। উদ্দেশ্যপ্রণোত পোস্টার দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। তবে সফল হবে না। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)