সংবাদদাতা, ডোমকল: আবাস যোজনার ঘর নিতে গেলে দিতে হতে ২০ হাজার টাকা। টাকা না দিলে নাম কেটে দেওয়ার ফরমান। রানিনগরের কাতলামারি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কংগ্রেসের উপপ্রধান আফিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক উপভোক্তাকে এমনই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিযোগ তুলেছেন ইউনুস আলি শেখ নামের এক বাসিন্দা। টাকার পরিমাণ নিয়ে দরাদরির একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় (অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। ঘটনা জানাজানি হতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
কাতলামারি ১ পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ইউনুস আলি শেখ পেশায় শ্রমিক। তাঁর কাছে আবাস যোজনার জন্য ওই কাটমানি চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে ইউনুস বলেন, আবাস যোজনার ঘরের ফাইনাল লিস্টে তাঁর নাম ওঠে। দিন কয়েক আগে বিডিও অফিস থেকে আমাকে আবাস যোজনার ঘরের জন্য ছবি তোলার ডেকেছিল। আমি কাজ বন্ধ করে গিয়েছিলাম। কিন্তু উপপ্রধান ও তাঁর সহযোগীরা মিলে আমার কাছে এখন ঘরের জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। আমি গরিব মানুষ, ২০ হাজার টাকা কোথায় পাব? টাকা না দিলে আমাকে ঘর দেওয়া হবে না বলা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পরে একটি অডিও রেকর্ডও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভাইরাল ওই অডিও ক্লিপে, একজনের সঙ্গে ঘরের টাকার জন্য দরাদরি করতে শোনা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে, ভাইরাল ওই অডিও ক্লিপে ইউনুস আলি শেখের পরিবারের লোকের সঙ্গে দরাদরি করছেন কংগ্রেসের ওই উপপ্রধান।
যদিও এবিষয়ে উপপ্রধান আফিরুল ইসলাম বলেন, ওই বুথ আমার নয়। আমি টাকা চাইনি। আমি শুধু বলেছিলাম, যদি তাঁদের এলাকার মেম্বার টাকা চায়, তাহলে কিছু টাকা দিয়ে কাজটা করিয়ে নিতে। আমি শুধু ওই মেম্বারের জন্য বলতে গিয়েছিলাম আমার জন্য নয়। আমি আমার জন্য টাকা চাইনি। সেটা আমার ভুল হয়েছে, যদি বলে থাকি তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আর আমি নাম কেটে দেওয়ার কথা কখনও বলিনি, ওটা আমার ক্ষমতার বাইরে।
রানিনগর ২ ব্লক কংগ্রেস সভানেত্রী মমতাজ বেগম হীরা বলেন, আমরা এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যই রানিনগরে ক্ষমতা এসেছিলাম। মানুষ আমাদের পঞ্চায়েতে বসিয়েছিল। এখন আমাদেরই উপপ্রধান যদি এই কাজ করে থাকে, তাহলে সমর্থন যোগ্য না। যদি সত্যিই ওই উপপ্রধান এই কাজ করে থাকে তাহলে তার পাশে কখনই দল থাকবে না। আমরা চাই উপযুক্ত তদন্ত হোক। এদিকে রানিনগর ২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মেহবুব মুর্শিদ বলেন, বিরোধীরা ভোটের সময় এলেই মুখোশ পরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে। অথচ সেই বিরোধী দলের উপপ্রধানই সাধারণ গরিব মানুষের কাছে থেকে ঘরের জন্য কাটমানি চাচ্ছে। ওই উপভোক্তা নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে সেই অভিযোগ তুলেছে। তাতেই স্পষ্ট, বিরোধীরা যতই নিজেদের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে না থাকার দাবি তুলুক না কেন, তাঁরা আদ্যপ্রান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত। এই ঘটনাই তার প্রমাণ।