• ভরতপুরে বালিকা খুনের ঘটনায় এখনও দোষীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ
    বর্তমান | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কান্দি: ভরতপুরের বালিকাকে নৃশংস খুনের ঘটনার ৪০দিন অতিক্রান্ত হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত দোষীদের শনাক্ত করতে পারেনি। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ পরিবার থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশি ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছে রাজনৈতিক দলের নেতারাও। কান্দির এসডিপিও শাশ্রেক আম্বারদার বলেন, তদন্ত চলছে। দোষীরা গ্রেপ্তার হলেই জানানো হবে।

    প্রসঙ্গত, ভরতপুর থানার সিজগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বছর আটেকের ওই বালিকা গতবছর ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়েই নিখোঁজ হয়। তার দু’দিন পর ২৫ নভেম্বর সকালে তার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় বাড়ি থেকে কয়েকশো মিটার দূরে ধান জমি থেকে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর সাজার দাবি করা হয়। কিন্তু, দেহ উদ্ধারের পর ৪০দিন কেটে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। রবিবার পর্যন্ত দোষীদের শনাক্ত পর্যন্ত করতে পারেনি পুলিশ।

    বাসিন্দারা জানান, দোষীদের শনাক্ত করার জন্য পুলিশ কয়েকবার স্নিফার ডগ নিয়ে এসে তল্লাশি চালিয়েছিল। কয়েকজনকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বাসিন্দাদের গ্রাম ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে গেলে পুলিশের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে বলে ফতোয়াও জারি করা হয়। তবে এত কিছুর পরেও পুলিশ দোষীদের ধারে কাছেও পৌঁছতে পারেনি।

    সম্প্রতি নাবালিকার গ্রামের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে স্থানীয় সিজগ্রাম পঞ্চায়েত ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। এরপর পুলিশের তদন্তের গতি কমে গিয়েছে বলে দাবি। পুলিশ বাসিন্দাদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করাও কার্যত স্থগিত রেখেছে বলে অভিযোগ।

    যদিও পুলিশের বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বালিকা খুনের ঘটনায় পুলিশ চারজনের একটি অঘোষিত টিম গঠন করে তদন্ত চালাচ্ছে। ওই তদন্ত টিমের চোখে গ্রামেরই কয়েকজন ঘটনায় জড়িত থাকতে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে পুলিশ তাদের এখনই গ্রেপ্তার করতে চাইছে না।

    যদিও এতদিন দোষীরা অবাধে ঘুরে বেড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃতার পরিজনরা। মৃতার বাবা বলেন, পুলিশ তো বলছে দোষীদের ধরবেই। কিন্তু, এখনও কাউকে ধরতে পারল না। আবার পুলিশের কাছে যাব। দেখব পুলিশ কী বলছে। পুলিশ যদি না পারে সিআইডির দাবি করব। উপর মহলে যাব। কবে দোষীদের ধরা হবে জিজ্ঞাসা করব। শুধু ধরব ধরব বললে চলবে না। আমার তো পরিবার আছে। মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে কাজে যেতে পারিনি। সংসার কীভাবে চলবে। আমাকে তো রোজগার করতে হবে।

    তৃণমূলের সিজগ্রাম অঞ্চল সভাপতি আমির হামজা বলেন, পুলিশ তদন্ত চালালেও লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না। পুলিশকে বলেছি প্রয়োজনে সিআইডিকে তদন্তের ভার দেওয়া হোক। কংগ্রেসের প্রাক্তন ভরতপুর বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা থানা ঘেরাও করে পুলিশকে একমাস সময় দিয়েছিলাম। তা পার হয়েছে। এবার বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সহকারী সভাপতি অপূর্ব দাস বলেন, অপদার্থ অফিসার দিয়ে রাজ্য চলছে। ভরতপুর থানার ক্ষেত্রেও নতুন কিছু বলার নেই। একটা দুধের বাচ্চা খুন হয়ে গেল, খুনিরা অধরা। মানুষের আশার আলো কোথায়?
  • Link to this news (বর্তমান)