সরকারি খরচে তৈরি শিশু উদ্যান ও পিকনিক স্পট ভরেছে আগাছায়, অসামাজিক কাজকর্মের আখড়া
বর্তমান | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: শিশুদের খেলাধুলোর পাশাপাশি শীতে কেউ চাইলে পিকনিকও করতে পারবে—এমন পরিকল্পনা নিয়ে বজবজ ১ নং ব্লকের বুইতা গ্রাম পঞ্চায়েত গোবরঝুরির কাছে তৈরি করেছিল একটি শিশু উদ্যান। কয়েক বিঘা জায়গা ঘিরে তার ভিতর শৌচাগার, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বাচ্চাদের জন্য স্লিপার, দোলনা থেকে শুরু করে বসে বিশ্রাম নেওয়ার জায়গাও করা হয়েছিল। তৈরি করা হয়েছিল একটি কুটির, যা উদ্যানের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় অনেকটাই। সব মিলিয়ে পাঁচটি পিকনিক স্পট করা হয়। সরকারি তহবিল থেকে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে গড়ে তোলা হয়েছিল এসব। সেই শিশু উদ্যানেরই এখন বেহাল দশা। উদ্যান ও পিকনিক স্পট ঢেকেছে আগাছার জঙ্গলে। সাপখোপের আড্ডা। দোলনা, স্লিপার ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। ঝাঁ চকচকে করে বানানো শৌচাগার নোংরা আবজর্নায় ভরে রয়েছে। দুর্গন্ধে টেকা দায়। শৌচাগারে ব্যবহারের জন্য যে জলের ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছিল, সেখান থেকে পাইপ খুলে গিয়েছে। জল অবশ্য আসেও না। কারণ, পাম্প চালানোর জন্য যে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া ছিল, তা কেটে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগে ভিতরে ও বাইরে আলোর যে ব্যবস্থা ছিল, বর্তমানে তাও অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর জায়গাটি পরিত্যক্ত, ভুতুড়ে চেহারা নেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে অসামাজিক কাজকর্মে যুক্ত এক শ্রেণির লোক। মদ আর গাঁজার ঠেকে পরিণত হয়েছে শিশু উদ্যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সন্ধ্যা নামলে এমনিতেই ওদিকে যেতে কেউ সাহস করে না। তার মধ্যে পার্কের এখন যা অবস্থা, তাতে দিনের বেলায়ও ওমুখো হতে দু’বার ভাবতে হচ্ছে সবাইকে। প্রয়াত জেলা পরিষদ সদস্য সীমান্ত বৈদ্যের উদ্যোগে এই পার্কটি তৈরি হয়েছিল। প্রথম দিকে শিশু ও তাদের অভিভাবকদের ভিড় জমাতেন। শীতে পিকনিক করতেও আসত অনেকে। কিন্তু গত এক বছরের বেশি হল, এর কোনও রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। ধীরে ধীরে চারপাশ আগাছা ও জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। বুইতা গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, এক বছর আগে এই পার্কটি চালানোর জন্য একটি সংস্থাকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। তারা নজর দেয়নি। বজবজ ১ ব্লকের বিডিও প্রণয় দাস বলেন, ‘একটি সংস্থাকে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, এটা জানি। কিন্তু এমন দুরবস্থার বিষয়ে জানা নেই। খোঁজ নেব।’ নিজস্ব চিত্র