নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিধানসভা ভোট আসতে আর হাতে গোনা কয়েকটা মাস। এমন সময়েই তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাঙড়। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার অনুগামীদের সঙ্গে প্রবল ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ল তাঁর বিরোধী গোষ্ঠী। অভিযোগ, আরাবুল ইসলামের পুত্র তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য হাকিমুল ইসলামের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। চলে তুমুল বিক্ষোভ। মারধর করা হয়েছে আরাবুল-ঘনিষ্ট এক নেতাকেও। এমনকী, হাকিমুলের পেট্রল পাম্প অফিসের ভিতরে ঢুকেও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে ভাঙড়ের পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। যেভাবে দলের দুটো শিবিরের মধ্যে মারামারি ও হাতাহাতি হচ্ছে, তাতে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব অস্বস্তিতে পড়ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য সরকারের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। সেইমতো প্রতিটি বিধানসভা আসনে দলীয় কর্মীদের নিয়ে বুথভিত্তিক কমিটি গড়া হয়েছে। তাতে শওকত মোল্লা এবং আরাবুল ইসলাম উভয় নেতার অনুগামীরাই দায়িত্ব পেয়েছেন। শনিবার তৃণমূলের যাদবপুর-ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী ভাঙড়ের ওইসব নেতাকে তাঁর বাড়িতে ডাকেন। সেখানে অদুত মোল্লা, হাকিমুল ইসলাম-সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সেরে বাড়ি ফেরার পর অদুত মোল্লার বাড়িতে কয়েকজন দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। কেন তিনি জেলা সভাপতির বাড়ি গিয়েছিলেন, সেই নিয়ে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ওই তৃণমূল নেতা।
এদিকে, রবিবার সকালে অদুতের সঙ্গে দেখা করতে যান আরাবুল পুত্র, প্রদীপ মণ্ডল-সহ কয়েকজন নেতা। তাঁরা প্রত্যেকেই শওকত-বিরোধী গোষ্ঠীর লোক বলেই পরিচিত। অদুতের বাড়ি থেকে বেরনোর পরই শুরু হয় গোলমাল। শওকত অনুগামী কয়েকজন নেতা হাকিমুলের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেইসময় দুই গোষ্ঠীর কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি হয়। অভিযোগ, ইট ছোড়া হয় গাড়িতে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে আক্রান্ত হন প্রদীপবাবু। ঘটনাস্থলে যায় উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ। কোনওমতে সেখান থেকে হাকিমুলদের বের করে দেয় তারা। কিন্তু অশান্তি সেখানেই থামেনি। আরাবুল পুত্রের গাড়ি ধাওয়া করে অপর গোষ্ঠীর লোকজন। তখন কাশীপুর মোড়ের কাছে হাকিমুলের গাড়ি তৃণমূল নেতা খয়রুলের গাড়িকে চেপে দেয় বলে অভিযোগ। তখনকার মতো সবাই চলে গেলেও পরিস্থিতি পরে আরও খারাপ হয়। ওই তৃণমূল নেতার লোকজন হাকিমুলের পেট্রল পাম্পে ঢুকে তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ।
এই বিষয়ে হাকিমুল বলেন, ‘শওকত মোল্লার নেতৃত্বে আমার গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন এবং দলের উচ্চ নেতৃত্বকে জানিয়েছি। যা হচ্ছে তা নিন্দনীয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করছি।’ অন্যদিকে, এ বিষয়ে শওকাত মোল্লার বক্তব্য, ‘ভাঙড়ে একটা গন্ডগোলের খবর শুনেছি। দলের কিছু গদ্দার এলাকা অশান্ত করতে অদুতের বাড়িতে গিয়েছিল বলে জেনেছি। এনিয়ে ওই এলাকার কিছু মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। এ কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ব্যাপার নয়।’