নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: এসআইআর শুনানির আতঙ্কে কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হলেন। কারও মাথা ফাটল শুনানি কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে। উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলা থানা ও তারকেশ্বরে দুই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার এই নিদারুণ পরিণতিতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আক্রান্তদের পরিবার কমিশনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। রাজ্যের শাসক দল কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে কমিশন।
ঘোলা থানার বিলকান্দা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তালবান্দা উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা অলোকা বিশ্বাস(৬২)। তাঁর একমাত্র ছেলে মিলন বিশ্বাস করোনায় মারা গিয়েছেন। পরিবারে পুত্রবধূ ও নাতি ও নাতনি রয়েছে। ছেলেকে হারিয়ে এমনিতেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন ওই বৃদ্ধা। তার উপর চেপে বসে এসআইআর আতঙ্ক। শুক্রবার শুনানির জন্য বৃদ্ধাকে নোটিশ দিয়ে আসেন বিএলও। পুত্রবধূ রত্না বিশ্বাস বলেন, ‘নোটিশ হাতে পাওয়ার পর থেকে শাশুড়ি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। পরিবারে কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলছিলেন না। খাওয়াদাওয়াও বন্ধ করে দেন। মেয়ের সঙ্গে চেয়ারে বসে শুনানির কাগজপত্র কোথা থেকে পাবেন তা নিয়ে কথা বলছিলেন। বসে থাকা অবস্থায় আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চেয়ার থেকে পড়ে যান।’ রত্নাদেবী জানান, অলোকাদেবী পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠায় তাঁকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল থেকে জানিয়েছে, উনি কোমায় চলে গিয়েছেন। তারপর আমাদের দিয়ে বন্ডে সই করিয়ে নিয়েছে। জানি না কি হবে। পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রবীর দাস বলেন, ‘বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কমিশন চলছে। আর ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। বৃদ্ধার এই পরিণতির দায় কমিশনকে নিতে হবে। মানুষ ভোটবাক্সে জবাব দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে।’
অন্যদিকে তারকেশ্বর বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজিরা দিতে এসে মাথা ফাটল বৃদ্ধের। তারকেশ্বর ব্লকের সন্তোষপুর পঞ্চায়েতের জিয়াড়া প্রাইমারি স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক ভরতচন্দ্র সামন্ত। তাঁর স্ত্রী চিত্রলেখা সামন্ত। তাঁরা তারকেশ্বর পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডে এক বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন। রবিবার বৃদ্ধ দম্পতি টোটোয় তারকেশ্বর বিডিও অফিসের শুনানিতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ভরতবাবু। মাথার সজোরে আঘাত লাগে। ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। পরে বিডিও অফিসের কর্মী ও পুলিশ কর্মীদের সহযোগিতায় তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের দেখার পর কমিশনের তরফে মাইকিং করে বলা হয় যাঁরা অসুস্থ তাঁদের বাড়ি গিয়ে শুনানি করা হবে। বিডিও অফিসের সামনে এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। এছাড়া তারকেশ্বর বালিগড়ির বাসিন্দা নেহা পাখিরা ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাঁকেও দেখা গিয়েছে বিডিও অফিসে সুনানিতে। এমন বহু অসুস্থ ও বৃদ্ধ এদিন শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন। তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় জানান, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা ও কাজে কোন মিল নেই। বয়স্ক, অসুস্থ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই ধরনের ঘটনাকে তীব্র ধিক্কার জানাই।