সমবায় ভোটে জয়ের পর তৃণমূল নেতার উপর ‘হামলা’ বিজেপির, নন্দীগ্রামে তুমুল উত্তেজনা
প্রতিদিন | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: সমবায় ভোটে জয়ের পর তৃণমূল নেতার উপর ‘হামলা’ বিজেপির। নন্দীগ্রামে তুমুল উত্তেজনা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চাপানউতোর। হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। তাদের দাবি, সমবায় ভোটে জিততে না পেরে বিজেপির বিরুদ্ধে কুৎসা করছে তৃণমূল। শাসক শিবির সমবায় ভোটকেই গুরুত্ব দিতে নারাজ। বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
নন্দীগ্রাম বিধানসভার নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের গাংড়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের পরিচালন সমিতির নির্বাচন ছিল রবিবার। ৯টি আসনের প্রতিটিতে জয় পায় বিজেপি। খাতাই খুলতে পারেনি তৃণমূল। ফলাফল বেরনোর পর জয়ের উচ্ছ্বাসে স্বাভাবিকভাবেই আবির খেলায় মেতে ওঠেন পদ্ম শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। জয়োল্লাসের মাঝে শুরু হয় অশান্তি। অভিযোগ, নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গকে লক্ষ্য করে ‘চোর’, ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। তাঁর উপর হামলা করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।
বিজেপির দাবি, তারা মোটেও হামলা করেনি। ভোটে হারের ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল। যদিও শাসক শিবির সে অভিযোগ মানতে নারাজ। খোদ নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকে তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গ সমবায় সমিতির নির্বাচনকে ভোট হিসাবে মানতেই নারাজ। বলে রাখা ভালো, চলতি বছরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সমবায় নির্বাচনে জয় যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ভোটবাক্সে কোনও প্রভাব ফেলতে পারতে, ওয়াকিবহাল মহলে উঠছে প্রশ্ন। তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মেঘনাথ পালের দাবি, “সমবায় ভোটে জয় আমাদের নিশ্চিত ছিল। এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস নিঃসন্দেহে কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।” যদিও তৃণমূল নেতা বাপ্পাদিত্য গর্গের দাবি সমবায় ভোটের জয় বিধানসভা নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের কোনও প্রভাব বিধানসভা ভোটে পড়বে না। কারণ, শুভেন্দু যেভাবে নন্দীগ্রাম-সহ গোটা মেদিনীপুরে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উন্নয়নের সঙ্গেই থাকবেন। তাই জয় হবে তৃণমূলেরই।” এই ঘটনার পর থেকে এলাকা থমথমে। নজর রাখছে পুলিশ।