টেবিলে টাকার পাহাড়! ভিডিও ভাইরাল হতেই বিতর্কে বারাসতের তৃণমূল নেতা
প্রতিদিন | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
অর্ণব দাস, বারাসত: টেবিল জুড়ে থরে থরে রাখা ৫০০টাকার বান্ডিল। তাঁর ঠিক ডান পাশে বসে বারাসত ১নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সহ সভাপতি। আর এক দিকে বসে এক ব্যবসায়ী। রবিবার শাসক নেতার এহেন ভাইরাল ভিডিও নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিওটি পুরোনো এবং জমি কেনাবেচার লেনদেনের বলে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা দাবি করলেও ইডি তদন্তের দাবি করেছে বিজেপি। ভাইরাল ভিডিওটি ৩মিনিট ২০সেকেন্ডের। যদিও এর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন।
তাতে দেখা গিয়েছে, দোতলার কোনো অফিস ঘরে টেবিলের উপর ৫০০টাকার নোটের পাহাড়। ঠিক পাশে তিনটি চেয়ার। একটিতে বসে তৃণমূল নেতা গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল, তাঁর পাশে আরেকজন। আরেকটিতে ব্যবসায়ী বাকিবুল ইসলাম। টাকার বান্ডিল এত উঁচু যে ব্যবসায়ীর মুখ দেখার উপায় নেই। প্রাথমিক ভাবে সেখানে নগদে প্রায় কোটি টাকা ছিল বলেই অনুমান করা হচ্ছে। ভিডিওর শেষে আরেকজনকে সেই টাকা ব্যাগে ভরে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। ঝড়ের মতো এই ভিডিও শেয়ার হতেই গিয়াসউদ্দিনের সাফাই, “২০২২ সালের ভিডিও। আমার এক বন্ধু জমি কিনেছিল। এরই লেনদেন চলছিল। আমি শুধুমাত্র উপস্থিত ছিলাম।” এদিকে আরেক ব্যবসায়ী বাকিবুলের আবার বক্তব্য, “কয়েক বছর আগের ভিডিও। যতটুকু মনে পড়ছে জমি বিক্রির লেনদেনের টাকা। গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল সেই জমির পার্টনার। কাজীপাড়ার একটি জায়গায় বসে এই লেনদেন হয়েছে। সকল পার্টনারের উপস্থিতিতেই লেনদেন হয়েছিল।”
দু’জনেই ভিডিওটি পুরোনো এবং জমি কেনাবেচার বললেও দ্বিমত একটি জায়গায়। তৃণমূল নেতার জমি ব্যবসার পার্টনার কি না? বিরোধীরা আবার এনিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্র জানিয়েছেন, “গিয়াসউদ্দিন মন্ডল একজন জমি মাফিয়া। এদের নিয়েই তৃণমূল চলছে। এরা যেভাবে জনগণের টাকার লুট করছে নিন্দার ভাষা নেই। মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে। আমি ইডিকে বলব শতঃপ্রণোদিত মামলা ঋজু করে তদন্ত করে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত সকলকে গ্রেপ্তার করতে।” এনিয়ে বিতর্ক বাড়লে বারাসত ১নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হালিমা বিবি জানিয়েছেন, “ব্যবসা করা অপরাধ নয়। গিয়াসউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে জমির ব্যবসা করেন। আসলে ভোটের আগে পুরোনো ভিডিও ভাইরাল করে তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত।” অন্যদিকে আবার বারাসত ১নম্বর ব্লক তৃণমূলের কনভেনর ইছা হক সর্দার জানিয়েছেন, “পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি পেশায় একটি স্কুলের ক্লার্ক। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কি না জানা নেই। ঘটনাটি নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।”