রাকিব ইকবাল, উলুবেড়িয়া
হুগলি নদীর মেন্ডারিং গঠনই ভয়াবহ ভাঙনের কবলে ফেলছে হুগলি নদীর পশ্চিম পাড়ের বাঁধকে। হাওড়া গ্রামীণের বাউড়িয়া থেকে উলুবেড়িয়া পুরসভা এলাকার জগদীশপুর ও শ্যামপুরের বেলাড়ি- এই সব এলাকাই ভাঙনপ্রবণ। এর মধ্যে উলুবেড়িয়া পুরসভা এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জগদীশপুরে পাশাপাশি দু'টি জায়গায় ১৫০ মিটার নদীবাঁধ বছর তিনেক আগে ভয়াবহ ভাবে ভাঙতে শুরু করে।
ঠিক ওই সময়েই শ্যামপুর এক নম্বর ব্লকের বেলাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব বাসুদেবপুর গ্রামের নদীবাঁধ ভাঙনের কবলে পড়ে। তখন থেকেই ভাঙন মোকাবিলায় নামে সেচ দপ্তর। শাল-বল্লা, বোল্ডার ফেলে প্রাথমিক পর্যায়ে নদীর ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছিল সেচ দপ্তর। কিন্তু ক্রমবর্ধমান ভাঙনের জেরে তা গিলে খায় হুগলি নদী। এ বার নদীর পাড়ে ভাঙন রোধে ও পলি সঞ্চয়কে আরও দ্রুততার সঙ্গে করার লক্ষ্যে সার্কুলার সসেজ লঞ্চিং শুরু করল সেচ দপ্তর। জগদীশপুর বাঁশতলা এলাকায় নদীর পাড়ে ১১টি পয়েন্টে এই সার্কুলার সসেজ লঞ্চিং শুরু হলো।
ভাঙন ধরা নদীর পাড়ের গভীরতা কমাতে, পলি অ্যারেস্টের কাজে নামে সেচ দপ্তর। বাঁশের তৈরি বিশেষ আকৃতির খাঁচা ফেলে, নদীর জোয়ার-ভাটাকে কাজে লাগিয়ে, সেচ দপ্তর নদীর পলি ওই ভাঙন এলাকায় সঞ্চিত করার কাজ শুরু করে। বিগত বছর দুই ধরে এই প্রক্রিয়ায় ভাঙন এলাকায় পলি সঞ্চিত হতে থাকে। এ বার সার্কুলার সসেজ লঞ্চিং প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন করতে ভাসমান পল্টনকে ব্যবহার করছে সেচ দপ্তর। পল্টনবোঝাই হাজার হাজার ইট ২০ মিটার লম্বা বিশেষ আকৃতির তারের খাঁচায় ভরে, নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে নদীর জলে ফেলা হচ্ছে।
সেচ দপ্তরের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় নদীর ভাঙন রোধ ও পলি সঞ্চয় একসঙ্গে ভালো ভাবে করা সম্ভব। সেচ দপ্তরের এক কর্তা বলেন, 'উলুবেড়িয়া পুরসভা এলাকার বাউড়িয়া থেকে কালীনগর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার নদীর বাঁধ বেশ ভাঙনপ্রবণ।' কারণ হিসেবে ওই আধিকারিক জানান, এই এলাকায় হুগলি নদী সোজা পথে না গিয়ে, বাঁকা পথে প্রবাহিত। ফলে, নদীর জলের ধাক্কা ক্রমাগত এই বাঁধকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ছাড়াও, নদীর নাব্যতা সব জায়গায় সমান নয়, উলুবেড়িয়ার গা ঘেঁষে প্রবাহিত হুগলি নদীতে বহু জায়গায় নাবত্যা কমেছে পলি সঞ্চিত হয়ে। উলুবেড়িয়ার দিকে অনেক জায়গায় নদী তার চলার পথে ডিপ চ্যানেল তৈরি করেছে। ডিপ চ্যানেল ধরেই বড় বড় মালবাহী জাহাজ চলাচল করে। জাহাজগুলিকেও এই কারণে তার চলাচলের পথ পরিবর্তন করতে হচ্ছে। বহু জায়গাতেই জাহাজগুলি অনেকটাই নদীপাড় ঘেঁষে যাতায়াত করে।' সেচ দপ্তরের ওই আধিকারিক জানান, নদীতে ড্রেজিং হলে, এই সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে।