• শুনানির জন্য নথির খোঁজ স্কুলে, ভাবনা সংরক্ষণের
    আনন্দবাজার | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • ডাঁই হয়ে পড়ে থাকা নথিগুলির এত গুরুত্ব, আগে বোঝেননি কেউ। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানির নোটিস পৌঁছনো শুরু হতেই, খোঁজ পড়েছে সে সবের। পুরনো নথিপত্র ধুলো ঝেড়ে নামিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য বার করতে অনেক সময়েই কালঘাম ছুটছে। কোনও ক্ষেত্রে পুরনো রেজিস্টারের পাতা ছিঁড়ে যাচ্ছে, কোথাও আবার হলুদ হয়ে যাওয়া পাতা খসে পড়ার উপক্রম। তা দেখে পূর্ব বর্ধমানের নানা স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পড়ুয়া-ভর্তির পুরনো এই সব নথি ‘ডিজিটাইজ়’ করে সংরক্ষণকরবেন তাঁরা।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসস্থান বা বয়সের প্রমাণে প্রাথমিক স্কুলের শংসাপত্র গৃহীত হচ্ছে এসআইআরের শুনানিতে। সে কারণে বহু প্রাক্তনী হাজির হচ্ছেন স্কুলে। তাঁদের অনেকেই পড়াশোনা করেছেন বেশ কয়েক দশক আগে। এই সব ভোটারের নথি খুঁজে বার করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছেই, বলছেন প্রধান শিক্ষকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এখন ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালের মাধ্যমে প্রাথমিকে ভর্তি হতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। পোর্টালেই সব ছাত্রছাত্রীর যাবতীয় তথ্য তোলা থাকে। ফলে, সহজেই যে কোনও শংসাপত্র পাওয়া যায়। কিন্তু কয়েক বছর আগেও এই সুবিধা ছিল না। তখনকার তথ্য পেতে স্কুলের রেজিস্টারই ভরসা।

    সম্প্রতি বর্ধমানে জেলাশাসকের অফিসে শুনানিতে আসা মিতালি বিশ্বাস জানান, স্বামীর চাকরির সূত্রে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পুরুলিয়া ঘুরে, বর্ধমানে থিতু হয়েছেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি। স্বামীও মারা গিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘বিএলও জানালেন, প্রাথমিক স্কুলের শংসাপত্র পেলেও হবে। কিন্তু এমন কপাল, প্রাথমিক স্কুলে ১৯৭৩ সালের রেজিস্টারে আমার নাম থাকা পাতাটাই নেই! হয়রান হচ্ছি।”

    মেমারির মহেশডাঙা ক্যাম্পের প্রাথমিক স্কুলে শংসাপত্র নিতে আসা কনকলতা বিশ্বাস জানান, ১৯৭৩ সালে এই স্কুলে ভর্তি হন। পরে বিয়ের সূত্রে নদিয়ার শান্তিপুরে চলে যান। এখন আবার এসআইআরের সৌজন্যে স্কুলে আসতে হয়েছে। প্রায় নষ্ট হতে বসা রেজিস্টারের পাতা থেকে নাম বার করে প্রধান শিক্ষক অসীমকুমার বিশ্বাস তাঁর হাতে শংসাপত্র তুলে দেন। প্রধান শিক্ষকের কথায়, “প্রায় ৫০ বছর ধরে পড়ে থাকা রেজিস্টারের পাতা হলুদ হয়ে গিয়েছে। নতুন রেজিস্টার কিনেছি, সব নাম তুলব। তার পরে ডিজিটাইজ় করব ঠিক করেছি।”

    মেমারির পাল্লা ক্যাম্পের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পিয়ালি চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, “যে সব রেজিস্টারের দিকে নজর ছিল না, সেগুলি বার করতে হচ্ছে। উই অনেক নষ্ট করে দিয়েছে। প্রায় ৩০ জনকে শংসাপত্র দিয়েছি। প্রাক্তনীদের নাম নতুন ভাবে রেজিস্টারে তুলব ঠিক করেছি।’’ বর্ধমানের বেলপুকুর প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুব্রত দাস বলেন, “এসআইআর-পর্বে প্রাথমিকের শংসাপত্রের গুরুত্ব এক ধাক্কায় বেড়ে গিয়েছে। আমরা এ বার রেজিস্টার ‘ডিজিটাইজ়’ করার দিকে পা বাড়াব।” পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান মধুসূদন ভট্টাচার্য বলেন, “খুব ভাল উদ্যোগ। কয়েকটি স্কুল চালু করার পরে, কী ভাবে প্রাক্তনীদের নাম, ঠিকানা, জন্মের তারিখ সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তা দেখব। তার পরে সব স্কুলকেই তা করতে বলব।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)