• আজ গঙ্গাসাগরে মুখ্যমন্ত্রী, মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতুর শিলান্যাস, কবে শেষ হবে নির্মাণ?
    আজ তক | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • মকর সংক্রান্তির পূণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে এখন সাজ সাজ রব গঙ্গাসাগরে। মেলা চলবে ৮ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। তারআগে মেলার কাজ পরিদর্শন করতে আজ  গঙ্গাসাগর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে  স্থাপন করবেন মুড়িগঙ্গা নদীর উপর প্রস্তাবিত সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর। এই সেতু তৈরি হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ এবং অপর প্রান্তে থাকা কচুবেড়িয়া জুড়ে যাবে। এর ফলে একদিকে গঙ্গাসাগরে পূর্ণ্যার্থী, পর্যটক ও সাগর দ্বীপে বসবাসকারী মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হবে। তেমনই নন্দীবন্দর তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, বিপদ হাতে নিয়ে মানুষকে আর ভেসেলে করে নদী পাড় হতে হবে না। বলা ভালো, যাতায়াতে বিপ্লব ঘটাবে গঙ্গাসাগর সেতু।

    মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবের পথে
    প্রায় ছয়বছর আগে মুড়িগঙ্গার উপর একটি সেতু তৈরির স্বপ্ন দেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এজন্য একাধিকবার কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য দরবার করে রাজ্য সরকার। অবশেষে সাগরদ্বীপের মানুষ এবং গঙ্গাসাগর মেলায় আসা পুণ্যার্থীদের কথা ভেবে নিজেই সেতু গড়তে উদ্যোগ নেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৩ সালে  সাগরের মাটিতেই দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কেন্দ্রের দিকে আর চাতক পাখি হয়ে লাভ নেই, রাজ্য সরকারই নিজের উদ্যোগে গঙ্গাসাগর সেতু গড়ে তুলবে। তার পরেই শুরু হয় টেন্ডারের প্রক্রিয়া। নানা বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে অবশেষে শিলান্যাসের পথে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের গঙ্গাসাগর সেতু।

     মুড়িগঙ্গা নদীর উপর তৈরি হবে এই গঙ্গাসাগর সেতু
     মুড়িগঙ্গার উপর তৈরি হবে ৪.৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সেতু। উভয়পাশে থাকবে ১.৫ মিটার চওড়া ফুটপাত। সোমবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ কর্মকাণ্ডের শুভসূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, গঙ্গাসাগর সেতু প্রকল্পে আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১,৬৭০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেতুর নকশাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।  দায়িত্বে থাকছে নির্মাণ সংস্থা এল অ্যান্ড টি। জানা গিয়েছে, সেতুটি দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা নিবেদিতা সেতুর আদলে তৈরি করা হবে। শুধু তাই নয়, সেতু নির্মাণে জমির অধিগ্রহণের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। গঙ্গাসাগর সেতুর জন্য কাকদ্বীপের অংশে ৭.৯৫ একর এবং কচুবেড়িয়া অংশে ৫.০১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বাকি জমি অধিগ্রহণের কাজ খুব শীঘ্রই শেষ করা হবে বলে খবর। 

    সোমবার দুপুরে হেলিকপ্টারে করে সাগরে পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী। হেলিপ্যাড সংলগ্ন ময়দানেই আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন। সেতুর শিলান্যাস ছাড়াও সাগর ও সংলগ্ন এলাকার উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও উপভোক্তাদের মধ্যে সরকারি পরিষেবা প্রদানের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর। সেই কর্মসূচির পর মুখ্যমন্ত্রী ভারত সেবাশ্রম সংঘে যেতে পারেন ও কপিল মুনি মন্দিরে পুজো দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা।

    রাজ্য প্রশাসনের কাছে গঙ্গাসাগর মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা প্রতি বছরই এক বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবার প্রযুক্তির ব্যবহার কার্যত নজিরবিহীন। মেলা চত্বরে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশাল সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম। এখান থেকেই লট নম্বর ৮, কচুবেড়িয়া, ভেসেলের গতিপথ, বাস স্ট্যান্ড এবং মন্দির চত্বরের প্রতিটি কোণ মনিটর করা হচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও তার আশেপাশের এলাকায় মোট ১২০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের বিশাল এলইডি স্ক্রিনে প্রতিটি ক্যামেরার ফুটেজ রিয়েল টাইমে ফুটে উঠছে। কোথাও ভিড় জমছে কি না, বা কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে কি না, তা মুহূর্তের মধ্যে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে এই কন্ট্রোল রুম থেকে। শুধু স্থলপথ নয়, জলপথেও নজরদারির ব্যবস্থা এবার অত্যন্ত কড়া। মুড়িগঙ্গা নদীতে ভেসেল চলাচলের ওপর নজর রাখতে জিপিএস বা জিপিআরএস (GPRS) প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোনের ব্যবহারও করা হচ্ছে। ভিড়ের চরিত্র বুঝতে এবং দুর্গম এলাকায় নজর রাখতে এই ড্রোনগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। প্রযুক্তিগত নজরদারির পাশাপাশি মেলায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না নবান্ন। মেলা চত্বরে মোতায়েন করা হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ কর্মী।  মেলা চলবে ৮ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত৷ পুণ্যস্নানের যোগ থাকছে ১৪ জানুয়ারি দুপুর ১টা ১৪ মিনিট থেকে ১৫ জানুয়ারি ওই একই সময় পর্যন্ত।


     
  • Link to this news (আজ তক)