স্টাফ রিপোর্টার: ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে এমনিতেই অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি। মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক হারানোর আশঙ্কায় গেরুয়া শিবির। আর তার মধ্যেই কলকাতায় এসে মতুয়া ইস্যুতে বঙ্গ বিজেপির অস্বস্তি আরও বাড়ালেন দলের তফসিলি মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি লাল সিং আর্য। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে যাঁরা আসবেন, ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকা উচিত নয়। এখানে জাতি বা ধর্মের কোনও বিষয় নেই।” ভোটার তালিকা থেকে মতুয়া সমাজের বড় অংশের নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গে লাল সিং আর্যর এই মন্তব্যে ভোটের আগে চরম অস্বস্তিতে বিজেপি। শোরগোল রাজ্য বিজেপির অন্দরে। কলকাতায় আর্যের কথার বিরোধিতা করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “দল এই মন্তব্যকে অনুমোদন করে না।” সোশাল মিডিয়ায় বিজেপির ফেসবুক পেজ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় আর্যর ভাষণের লিঙ্ক।
রবিবার বিকেলে রাজ্য দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠক করেন আর্য। সঙ্গে ছিলেন তফসিলি মোর্চার রাজ্য সভাপতি সুদীপ দাস, বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়। বিজেপিও আগে বলেছে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্য ছিল, মতুয়াদের নাম বাদ গেলেও সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু এদিন আর্যর মন্তব্যে সেরকম কোনও আশ্বাস ছিল না। আর্যর কথায়, “বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে এলে তার নাম থাকা উচিত নয় ভোটার তালিকায়। জাতি ও ধর্মের কোনও বিষয় নেই। তবে যাঁরা ২০-২৫ বছর ধরে ভারতে আছেন, আমরা আইন করে তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দিয়েছি। তাঁদের নাম থাকা উচিত।”
কিন্তু খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি এর বিরোধিতা করে বলেন, দলের অবস্থানের বিপরীতে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। অস্বস্তিতে পড়ে বিস্ফোরক শমীক এও বলেন, “এ ধরনের অতিথিরা বাংলায় স্বাগত নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, মতুয়াদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। শরণার্থীরা সকলেই ভারতের নাগরিক। কেউ তাদের ক্ষতি করতে পারবে না।” কিন্তু লাল সিং আর্যর এই মন্তব্য নিয়ে পাল্টা যে তৃণমূল মাঠে নেমে পড়বে তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূল আগেই বলেছিল মতুয়াদের ভুল বোঝাচ্ছে বিজেপি।