ডাইনি অপবাদ দিয়ে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁরই নাতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের রামকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মামুদপুর গ্রামে। মৃতার নাম লক্ষ্মী সরেন (৬৯)। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত নাতি (মেয়ের ছেলে) সঞ্জয় টুডু (২১) ও তাঁর শাশুড়ি মিঠুন সরেনকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় লক্ষ্মী সরেনকে উদ্ধার করে কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বার্ধক্যজনিত কারণে লক্ষ্মী সরেন শারীরিক ভাবে দুর্বল ছিলেন। অভিযোগ, অভিযুক্ত সঞ্জয় টুডুর নাবালিকা বোন সোনুমি টুডু (১৬) দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। পরিবারের দাবি, সেই অসুস্থতার জন্যই লক্ষ্মী সরেনকে দায়ী করে তাঁকে ডাইনি অপবাদ দিতে থাকে গ্রামের অনেকেই। শনিবার এই বিষয়ে গ্রামে সালিশি সভা বসে। ডাইনি অপবাদ দূর করার নামে ওঝা ডেকে আনা হয়। এর জন্য মৃতার ছেলে মঙ্গলু টুডুকে প্রায় সাত হাজার টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ। এর পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
রবিবার রাতে ফের নাবালিকা সোনুমি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের দাবি, সে জানায় যে স্বপ্নে দেখেছে তার দিদিমা তাকে গলা টিপে খুনের চেষ্টা করছে। সেই কথা শুনে তেতে ওঠে তার ভাই সঞ্জয়। অভিযোগ, এর পরে সঞ্জয় ও অন্যান্যরা ইট, পাথর ও হাসুয়া নিয়ে লক্ষ্মী সরেনের উপর হামলা চালায়। মায়ের উপরে হামলা হচ্ছে দেখে ছেলে মঙ্গলু টুডু তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে, তিনি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় লক্ষ্মী সরেনকে পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয় বৃদ্ধার। এই ঘটনায় মৃতার ছেলে মঙ্গলু টুডু কুমারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মৃতার পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও গ্রামের আরও কয়েকজন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মৃতার ছেলে মঙ্গলু টুডু বলেন, ‘আমার ভাগ্নির অসুস্থতার জন্য নাকি আমার মা দায়ী। তাই মাকে ডাইন অপবাদ দিয়ে ইট, পাথর, লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে। যার জেরে মা রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরও অনেকে ঘটনাটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।’
অন্য দিকে, এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, ‘এনিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’