ব্রিগেড পরিদর্শন সারলেন হুমায়ুন, বলছেন, '১০ লাখ লোক হবে'
আজ তক | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
‘মেগা’ রাজনৈতিক সমাবেশ। সোমবার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ব্রিগেড গ্রাউন্ডে এলেন হুমায়ুন কবীর। 'জনতা উন্নয়ন পার্টি'র হুমায়ুন জানালেন, আগামী মাসের শুরুতেই সেখানে একটি বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনও তারিখ ঘোষণা করেননি। প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতি চাওয়া হবে বলে জানান।
ব্রিগেডে হুমায়ুনের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে অশান্ত পরিস্থিতিও তৈরি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের একাংশ ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তোলেন। হুমায়ুন কবীরকে বিজেপির ‘এজেন্ট’ বলে স্লোগান ওঠে। তাঁর গাড়ি কিছুক্ষণের জন্য ঘিরে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এই বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন কবীর বলেন, শাসক দল ভয় পেয়েছে। তাঁর দাবি, 'এই ভয়ই প্রমাণ করছে যে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় এসেছে।'
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের পর থেকেই হুমায়ুনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় TMC র। পরে দল থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। এরপরই কবীর নতুন রাজনৈতিক দল 'জনতা উন্নয়ন পার্টি' গঠনের ঘোষণা করেন।
নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে হুমায়ুন কবীর জানান, তাঁর প্রধান লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। তাঁর দাবি, রাজ্যে একটি স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলাই তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি সাধারণ মানুষের সমর্থন চান।
ব্রিগেডের পুরনো রাজনৈতিক ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেন। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা গনি খান চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে কবীর বলেন, এক সময় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে কংগ্রেসের সভা মানেই ছিল জনসমুদ্র। সেই সব সভার রাজনৈতিক প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। সেই স্মৃতিই তিনি ফিরিয়ে আনতে চান বলে দাবি করেন।
সম্ভাব্য সমাবেশের আকার নিয়েও বড় দাবি করেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর লক্ষ্য, ব্রিগেডে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ জমায়েত করা। তাঁর বক্তব্য, এই সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠবে। তবে সেই পরিকল্পনা কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। তবে রাজ্য রাজনীতিতে হুমায়ুনের ব্রিগেডের এই উদ্যোগ যে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে, তা বলাই বাহুল্য।