‘বিচারে দীর্ঘসূত্রতার যুক্তিতে জামিন হতে পারে না’, উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের
বর্তমান | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি, ৫ জানুয়ারি: জেলেই থাকতে হবে উমর খালিদকে। দিল্লি দাঙ্গা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত জেএনইউয়ের এই প্রাক্তন ছাত্রনেতার জামিনের আবেদন সোমবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। অপর ছাত্রনেতা শরজিল ইমামেরও জামিন হল না। তাঁদের বিরুদ্ধে চক্রান্তে জড়িত থাকার প্রাথমিক যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে সর্বোচ্চ আদালত এদিন জানিয়েছে। যদিও আপাতত স্বস্তিতে এই মামলায় অভিযুক্ত বাকি পাঁচ জন। গুলফিশা ফতিমা, মীরান হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ সালিম খান এবং সাদাব আহমেদের শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর করেছে বিচারপতি অরবিন্দ কুমারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
মামলার শুনানির সময় অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলদের বিনা বিচারে বছরের বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে জামিনের আবেদন করা হচ্ছে। কিন্তু তা-ও বিচারাধীন। গোটা বিচার প্রক্রিয়া অকারণে দীর্ঘ করা হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ। কিন্তু জামিনের স্বপক্ষে এই বক্তব্য কার্যত ধোপে টেকেনি। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার সংবিধানে স্বীকৃত। কিন্তু ‘বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বকে শাস্তি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।’ ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিচার চলছে, শুধুমাত্র এই যুক্তিতে উমর খালিদ ও শরজিল ইমামকে জামিন দিতে হবে, তা মনে করে না সর্বোচ্চ আদালত। যেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে কথিত চক্রান্তে জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ সরকার পক্ষ পেশ করেছে।
২০২০ সালে সিএএ এবং এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায়। তাতে মৃত্যু হয় ৫৩ জনের। জখম হন ৭০০ জনেরও বেশি। উমর, শরজিল সহ অন্যদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ এবং পূর্বতন আইপিসির একাধিক ধারায় মামলা করে দিল্লি পুলিশ। হাইকোর্টে জামিন না পেয়ে সুপ্রিম-দরজায় কড়া নাড়েন সাত অভিযুক্ত। গত ২ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানি শেষ হয়। ১০ ডিসেম্বর রায়দানের কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত রাখে আদালত।