• অনুপ্রবেশকারী তকমায় বীরভূমের মেয়ের ঠাঁই বাংলাদেশের জেলে! অত্যাচারিত সোনালীর কোল আলো করে দ্বিতীয় সন্তান... অভিষেক...
    ২৪ ঘন্টা | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দুঃসহ অন্ধকার পেরিয়ে আলোর মুখ। পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন ‘বাংলাদেশি’ তকমা পাওয়া সোনালি, উচ্ছ্বসিত অভিষেক দিলেন বার্তা।

    দীর্ঘ যন্ত্রণা, মিথ্যা অপবাদ এবং বাংলাদেশের জেলবন্দি জীবনের বিভীষিকা কাটিয়ে অবশেষে এক টুকরো জয়ের হাসি ফুটল বীরভূমের সোনালি খাতুনের (Sonali Khatun) মুখে। সোমবার বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে এক সুস্থ পুত্র সন্তানের (Sonali Bibi welcomes baby boy in Rampurhat) জন্ম দিয়েছেন তিনি। সোনালির এই মাতৃত্বের আনন্দ কেবল পরিবারের ব্যক্তিগত খুশি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শোষণের  বিরুদ্ধে এক ভারতীয় নারীর জয় হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

    দিল্লি পুলিসের ‘পুশব্যাক’ ও অন্তঃসত্ত্বা সোনালির যন্ত্রণার কাহিনী

    ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের জুন মাসে। কাজের সন্ধানে বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা সোনালি বিবি ও তাঁর পরিবার দিল্লিতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, বৈধ ভারতীয় নথি থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে দিল্লি পুলিস তাঁদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে দেগে দেয়। গত ২৬ জুন অসম সীমান্ত দিয়ে সোনালি ও তাঁর পরিবারকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, তাঁদের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ জুন তাঁদের গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ ৷ শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হয়৷ সেই সন্দেহের বশে ২৬ জুন অসমের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ‘পুশব্যাক’ করে ছ'জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয় ৷ সেই সময় সোনালি বিবি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পর তাঁরা দীর্ঘদিন বাংলাদেশে জেলে ছিলেন। কারণ, বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে ও মামলা রুজু করে। এই অবস্থায় একশো দিনেরও বেশি সময় তাঁরা স্থানীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন ৷ 

     

    অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সোনালিকে ওপার বাংলায় অনুপ্রবেশের দায়ে চাঁপাই নবাবগঞ্জের জেলে বন্দি থাকতে হয় ৭ বছরের ছোট ছেলের সঙ্গে। দীর্ঘ সাত মাস বাংলাদেশের মাটিতে অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হওয়ার পর, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে অবশেষে তিনি নিজের দেশে ফেরার অধিকার পান।

    পাশে ছিল রাজ্য সরকার ও তৃণমূল

    সোনালিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই সরব ছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দরবার করা থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়া—সবক্ষেত্রেই সোনালিকে আইনি ও মানবিক সহায়তা দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে কেন্দ্র সরকারের এই ভূমিকা তীব্রভাবে ভর্ৎসিত হয় এবং বাংলাদেশের আদালতও স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, সোনালি একজন ভারতীয় নাগরিক।

    অভিষেকের অভিনন্দন ও বীরভূম সফর


    সোনালির মা হওয়ার খবর পেয়েই সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    তিনি লেখেন: 'বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে সোনালি খাতুন একটি সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন জেনে অত্যন্ত আনন্দিত। ক্ষমতার এক মর্মান্তিক অপব্যবহারের মাধ্যমে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে বাংলাদেশি হিসেবে মিথ্যাভাবে চিহ্নিত করে জোর করে বাংলাদেশে নির্বাসিত করেছিল। এটি মানবতার জয়।'

    উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে সোনালির কালীঘাটে গিয়ে অভিষেকের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু সোনালির শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অভিষেক নিজেই তাঁকে যাতায়াত করতে বারণ করেন এবং সন্তান জন্মের পর দেখা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

    পরবর্তী পদক্ষেপ


    আগানিকাল, ৬ জানুয়ারি বীরভূমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক সভা রয়েছে। সেই সফরের মাঝেই তিনি সোনালির সঙ্গে দেখা করতে সশরীরে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে যাবেন। তিনি জানিয়েছেন, সোনালির পরিবার এবং নবজাতকের পাশে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দাঁড়াতে চান এবং তাঁদের আগামী দিনগুলোর সুরক্ষায় সবরকম সাহায্য করবেন।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)