• 'প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে মানুষের হয়ে প্লিড করব', SIR নিয়ে আইনি লড়াইয়ে মমতা!
    ২৪ ঘন্টা | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এসআইআর নিয়ে বিপাকে বহু মানুষ। কারও নামের বানান নিয়ে, কারও নামে পদবী পরিবর্তন নিয়ে শুনানিতে ডেকেছে কমিশন। বয়সের কারণে অনেকের শুনানিতে যেতে নাভিশ্বাস উঠেছে। শুনানিতে যাওয়ার পথে মারাও গিয়েছেন কেউ কেউ, এমনও অভিয়োগ উঠছে। ওইসব অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এনিয়ে এবার আইনি লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    সোমবার গঙ্গাসাগরে গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোট ৫ কিলোমিটার লম্বা চার লেনের ওই সেতু তৈরি হবে ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে। সেতুটি তৈরি হয়ে গেলে গঙ্গাসাগর যাওয়ার যে যন্ত্রণা লাঘব হবে। সেতুটি যোগ করবে কাকদ্বীপের লর্ট ৮ এর সঙ্গে কচুবেড়িয়াকে।

    ওই শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আইনের সাহায্য নিচ্ছি। আগামিকাল কোর্ট খুলবে। আমরাও আইনের সাহায্য নেব। এত মানুষের মৃত্য,এত মানুষকে হ্যারাস করেছে। প্রয়োজন পড়লে আমি নিজেও পারমিশন চাইব। দরকার হলে সুপ্রিম কোর্টে মানুষের হয়ে প্লিড করব। আমি মানুষের হয়ে কথা বলব। আইনজীবী হিসেবে যাব না। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমার কথা বলতে পারি। কথা বলার অনুমতি নেব আর চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করব তৃণমূলস্তরে কী চলছে। যতই চেষ্টা করো বিজেপি, মিলবে নাকো জিলিপি।

    ভোটার লিস্ট সংশোধন নিয়ে মমতা বলেন, মেয়ে বিয়ের পর পদবি চেঞ্জ করছে, টাইটেল চেঞ্জ করছে, বলছে নাম বাদ। ধরুন আমার নাম মমতা। আমি তো নামের ভিন্ন বানান লিখতে পারি। গর্ধবগুলো বোঝেই না। বাংলায় আর ইংরেজি বানান আলাদা। যারা বড়-বড় কথা বলে নাম কাটছেন, তাঁদের মা-বাবার সার্টিফিকেট আছে? আমি আমার মা-বাবার জন্মের সার্টিফিকেট জানি না। কারণ,বাড়িতে সব হোমডেলিভারি। আমিও গ্রামে জন্ম নিয়েছি। বাংলা ছিল আছে থাকবে। বাংলাকে বিনাশের ক্ষমতা নেই। একদিকে মা দুর্গা, অন্যদিকে দক্ষিণা কালী, মা তারা, রক্ষাকালী, ছিন্নমস্তা দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেমেয়েরা এগিয়ে এস। নতুন প্রজন্ম তৈরি হও।

    কমিশনকে দুষে মমতা বলেন, ৮৫ বছর বয়স্ক নাকে নল, তাকেও ডেকে নিয়ে যাচ্ছো! প্রেগন্যান্ট মহিলাদের ডেকে নিয়ে যাচ্ছ। আমরাও চাই SIR হোক। বছর দুয়েক ধরে হোক। জোর করে কেন? জোর করে করতে গিয়ে ৭০/৮০ জন মারা গিয়েছেন। যদি আপনাদের বয়স্ক বাবা মাকে ডেকে নিয়ে যেত তখন দিল্লির লাড্ডুরা কী উত্তর দিতেন!  বাংলাকে এখন প্রমান দিতে হবে আমি দেশের নাগরিক কিনা! তুমি কে ভাই! সবে এসেছ কিছু দিনের জন্য। বাংলা কোন‌ওদিন মাথা নত করেনি, করবেও না। এটা বাংলার ইতিহাস, মনে রেখে দিও দিল্লির জমিদারেরা। ইলেকশনের সময় ১০ হাজার আর ইলেকশন চলে গেলে বুলডোজার!‌ তোমার ভোটের সময় দাও ১০ হাজার, আর আমরা পাঁচ বছরে দিয়েছি ৬০ হাজার। গর্ধবগুলো বোঝেই না যে বাংলায় উচ্চারণ ও বানান এবং ইংরাজিতে উচ্চারন ও বানান আলাদা হতেই পারে। সিংহকে দেখে সিনহাকে কেটে দিচ্ছে,আর সিনহাকে দেখে সিংহ কে কেটে দিচ্ছে। ওদের অচল করতে হবে। আর বেশিদিন চলবে না। যে ৫৪ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে তাদের অধিকার ছিল ৭ নম্বর বা ৮ নম্বর ফর্ম ফিলাপ করার।‌ হোয়াটসঅ্যাপ এ চলছে ইলেকশন কমিশন। মানুষের অধিকার ভ্যানিশ করলে আপনারাও ভ্যানিশ হয়ে যাবেন। আমরাও আইনের সাহায্য নিচ্ছি। প্রয়োজন হলে আমি সুপ্রিম কোর্টে যাব, একজন আইনজীবী হিসাবে নয়, একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে যাব। আমি সাধারণ মানুষের কথা বলতে যাব। মিস্টার ভ্যানিশ কুমার,বাংলায় নো ডিটেনশন সেন্টার স্যার। অপেক্ষা করুন বিচারের জন্য,বিচার তো মানুষ‌ই দেবে। আর বাংলার দুর্যোধন দুংশাসনরা খেয়াল রাখবেন।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)