• জেলায় জেলায় শৈত্যপ্রবাহ! প্রবল ঠান্ডার মধ্যে কুঁকড়ে গুটিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা, প্রবল ঠান্ডা হাওয়ায়...
    ২৪ ঘন্টা | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলা জুড়ে তীব্র শীত (severe cold in Bengal)। কী শহরাঞ্চল, কী গ্রামাঞ্চলে। তবে বাংলার জেলায়-জেলায় তীব্র শীতের আবহ (Winter season in Bengal Districts)। উত্তরবঙ্গ (winter in north bengal) থেকে দক্ষিণবঙ্গ (winter in south bengal), পাহাড় থেকে সমুদ্র, জঙ্গল থেকে জনপদ-- সর্বত্র শীতের তীব্র কামড়। 

    বাঁকুড়া

    আজ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি। কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু গোটা জেলা। বেশ কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রার পারদ সিঙ্গল ডিজিটে ঘোরাফেরা করলেও গত দুদিন তাপমাত্রা দু ডিগ্রি বেড়ে জেলার তাপমাত্রা গিয়ে পৌঁছয় ১০ ডিগ্রিতে। যদিও একদিকে ঠান্ডা ও অন্য দিকে কনকনে বাতাসে জবুথবু গোটা জেলা।

    পুরুলিয়া 

    কনকনে শীতের আমেজ পুরুলিয়ায়। সকাল থেকে কুয়াশাচ্ছন্ন রয়েছে রাস্তাঘাট। আজ জেলার তাপমাত্রা রয়েছে ১০ ডিগ্রিতে। ঠান্ডায় জুবুথুবু অবস্থা সাধারণ মানুষের। দৃশ্যমান্যতা কম থাকায় ধীর গতিতে যানবাহন চালাচ্ছেন চালকরা ।

    পশ্চিম মেদিনীপুর

    রবিতে শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও সোমসকাল থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক এলাকায় কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সবং, পিংলা, ডেবরা, নারায়ণগড় ও খড়গপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমেছে। সকালবেলায় রাস্তাঘাট ও খোলা মাঠে কুয়াশার চাদর পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। যদিও গত কয়েক দিনের তুলনায় শীতের প্রভাব কিছুটা কম অনুভূত হয়েছে। উত্ুতরে হাওয়ার সামান্য প্রভাব থাকলেও তাপমাত্রায় বড় কোনো পতন ঘটেনি। কুয়াশার কারণে সকালের দিকে যানচলাচলে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা ধীরে ধীরে কেটে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

    নদীয়া

    আজ সকালের দিকে তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি, সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি হয়েছিল সকাল ৬টার সময়। আগুন জ্বালিয়ে তাপ নেওয়া, গরম চায়ে চুমুক দেওয়া-- ইত্যাদির মারফত ঠান্ডা থেকে মুক্তি পাবার চেষ্টা করেন সকলে। সকাল থেকেই কুয়াশা রয়েছে। গতকালও রোদের দেখা মেলেনি।

    দুর্গাপুর

    শীতের টানা ইনিংস শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরেও। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি। সকালে দেখা মেলেনি সূর্যের। বইছে কনকনে হাওয়া। এই ঠান্ডা অবশ্য উপভোগ করছেন শিল্পাঞ্চলের মানুষ। তবে ঠান্ডায় সকালের দিকে রাস্তায় লোকজনের সংখ্যা কম। যাঁরা আছেন তাঁদের কেউ কোনো জায়গায় আগুন পোহাতে ব্যস্ত। এর মধ্যেই কেউ ফুটপাতে কম্বল চাপা দিয়ে শুয়ে। স্কুলের পড়ুয়াদের এই ঠান্ডার মধ্যেও স্কুলে আসতে হচ্ছে। ঠান্ডার কারণেই দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণে বাস কম সকালের দিকে।

    আসানসোল

    কনকনে শীতের আমেজ আসানসোল শিল্পাঞ্চল জুড়ে। কনকনে ঠান্ডা হাওয়া বইছে সকাল থেকে। সাধারণ মানুষ আগুনে গোটা শরীর সেঁকে নিচ্ছেন যেখানে সুযোগ পাচ্ছেন। খুব প্রয়োজন না হলে রাস্তায় বেরোচ্ছেন না। তাই রাস্তাঘাট কার্যত ফাঁকা। আজ জেলার তাপমাত্রা রয়েছে ৯-১০ ডিগ্রিতে। ঠান্ডায় জুবুথুবু অবস্থা সাধারণ মানুষের। 

    দক্ষিণ দিনাজপুর

    গত প্রায় তিন দিন দেখা নেই সূর্যের। সঙ্গে বইতে শুরু করেছে কনকনে উত্তরের হাওয়া। এতেই ক্রমশ নিম্নমুখী পারদ। গৃহবন্দী হয়ে পড়ছেন মানুষজন। শহরের গলি থেকে শুরু করে রাজপথ-- সর্বত্র একই ছবি। শীতের হাত থেকে বাঁচতে কেউ আগুনের সাহায্য নিচ্ছেন, কেউ চুমুক দিচ্ছেন গরম চায়ে। কনকনে এই শীতকে উপভোগ করছেন কেউ। কেউ-বা শীতের সকালে কাজে বেরিয়ে পড়েছেন চরম সমস্যায়। বিগত তিন দিনে যেভাবে কুয়াশা না থাকলেও মেঘলা আকাশ ও ঠান্ডা হওয়ার কারণে পারদ ক্রমশ নিম্নমুখী। 

    মালবাজার

    ডুয়ার্সেও শীতের দাপট। রাত থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকেছে গোটা এলাকা। ভোরের দিকে কুয়াশা কিছুটা কেটে গেলেও ঠান্ডার তীব্রতা একটুও কমেনি। সকাল গড়িয়ে গেলেও সূর্যের দেখা মেলেনি। তার উপর হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। প্রচণ্ড শীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্তব্ধ। রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো কম। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বেরোতে চাইছেন না। সকাল থেকেই এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তার ধারে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

    জলপাইগুড়ি

    শীতের দাপট অব্যাহত জলপাইগুড়িতে। জেলা জুড়ে কয়েক দিন ধরেই কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু অবস্থা। দোকানপাট দেরি করে খুলেছে। কয়েকদিন ধরে জলপাইগুড়ির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করেছে। জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্থানে মানুষজন পিকনিকের মুডে। বহু মানুষ ঠান্ডায় পথেঘাটে শুয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের কম্বল বিতরণ করতে এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে কিছু মানুষজনকে। চা-বলয় এলাকায় শ্রমিকদের হাতে কম্বল তুলে দেখা গেল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)