অয়ন শর্মা: নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ডাক্তার অনিকেত মাহাতো (Aniket Mahato)। ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্ট (WBJDRF) এর ট্রাস্টের সভাপতি পদ ছাড়ার পর,সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেছিলেন এস আর পোস্টিং ছেড়ে দেবে। পাশপাশি বন্ড এর ৩০ লাখ টাকা তোলার জন্য ক্রাউড ফন্ডিং (Crowd Funding) করবেন।
শনিবার তিনি স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা, স্বাস্থ্য অধিকর্তা কে মেইল করে এসআরশিপ (SR-Ship) ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দেন। এরই মাঝে শনিবার বিকাল থেকে, ৩১.১২.২০২৫ এ বের হওয়া একটি ভাইরাল অর্ডারে দেখা যায়, আগামী সাত দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম মেনে, আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (RG Kar Hospital),কাজে যোগদান করতে বলা হচ্ছে।
যদি অনিকেত জানান, নিজের সিদ্ধান্তই অনড় থাকছেন তিনি। ছেড়ে দিচ্ছেন এসআরশিপ। সেইমতো আজ সকালে, স্বাস্থ্য ভবনে এসে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে তার এস আর সিপ এর পদত্যাগ পত্র জমা দেন।
তিনি জানান,যে ৩১ .১২ ২০২৫ সালে যে অর্ডার বার হয়েছিল আর জি করে জমা করার জন্য। সেই অর্ডার তিনি মানেন না।তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন এসআরশিপ ।
আর জি করে অভয়া মৃত্যুতে, আলাদা করে আন্দোলন করবেন।
গত ২ জানুয়ারি, আরজি কর আন্দোলনে নয়া মোড় আসে। বাংলায় আর ডাক্তারি-ই করবেন না অনিকেত মাহাতো- এই মর্মে তিনি প্রেস কনফারেন্স করেন। জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে ইস্তফার পর এবার এসআরশিপ (সিনিয়র রেসিডেন্সি)-ও ছাড়ছেন আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো! সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই জানালেন 'বিদ্রোহী' অনিকেত!
সাংবাদিক বৈঠক করে অনিকেত বলেন, '৯ অগস্ট থেকে লড়াই শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সেই লড়াই সমর্থন করেছিল। লড়াইয়ের জন্যই সন্দীপ ঘোষ, আশিস পান্ডেরা জেলে। আমাদের দাবি মেনে তত্যকালীন সিপি সহ বেশ কিছু আধিকারিককে অপসারণও করা হয়। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে কিছু বক্তব্য রাখি, তাতে ক্ষুব্ধ হন। পরবর্তীকালে মেরিটের বাইরে গিয়ে আমার বদলি করা হয়। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তা করা হয়। এরপর হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ অর্ডার দেয়। ডিভিশন বেঞ্চও একই নির্দেশে দেয়। সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। সুপ্রিম কোর্টও বলে, ১৪ দিনের মধ্যে পোস্টিং দিতে হবে। কিন্তু তারপরেও এখনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলছে। এখনও পোস্টিং অর্ডার পাইনি। আরজিকরে পোস্টিং দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও অমান্য করা হচ্ছে।'
অনিকেতের দাবি, 'আন্দোলন করলেই, যারা থ্রেট কালচার, দুর্নীতি, তদন্তে গাফিলতি নিয়ে কথা বলবে, তাদের সঙ্গেই এভাবে ব্যবহার করা হবে।' এরপরই অনিকেত সিনিয়র রেসিডেন্সিয়ালশিপ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। অনিকেত তোপ দাগেন, ' দীর্ঘ ৮ মাস ধরে আমার ডাক্তারি জীবনকে সরকার মার্ডার করছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই সরকারের আমলে এসআরশিপ (সিনিয়র রেসিডেন্সি) করা থেকে সরে আসব। কারণ তাদের আমলে কাজ করতে পারব না। তাই এসআরশিপ পোস্টিং জায়গা থেকে সরে আসছি।'
এখন এসআরশিপ ছাড়তে গেলে সরকারকে বন্ডের ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হয়। এই বিশাল অঙ্কের টাকা মেটানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এমনকি চাইলে জুনিয়র ফ্রন্টও তাঁকে সাহায্য করতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অনিকেত বলেন, 'এসআরশিপ থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে সরকারকে বন্ডের ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হয় । সেটার জন্য সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার আবেদন জানাচ্ছি।জুনিয়র ফ্রন্ট যদি সাহায্য করতে চায় করতে পারে। এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।'
তবে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে ইস্তফা দিলেও ভবিষ্যতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি থাকবেন বলে জানান। একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেন যে, WBJF-এর লড়াই ঐতিহাসিক। সেখানে কোনও গাফিলতি নেই। অনিকেত বলেন,'অতীত দ্বিমত হয়েছে। কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছে। এখন কমিটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাই দ্বিমতের জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছি। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি দুর্নীতি নিয়ে লড়াই হয়, থ্রেট কালচার নিয়ে আন্দোলন হয়, তাতে নিশ্চয় থাকব। WBJF-এর লড়াই ঐতিহাসিক। প্রত্যকে লড়েছে। মনে করি না তা কোনও পরিহাস করেছে। কোনও গাফিলতি করেছে।' একইসঙ্গে অনিকেত স্পষ্ট করে দেন, তাঁর এই ইস্তফার সিদ্ধান্তের পিছনে ব্যক্তি স্বার্থের কোনও বিষয় নেই।