শান্তুনু কর, জলপাইগুড়ি: ছাড়তে চাননি স্বামী! নাছোড় প্রেমিকও। সম্পর্কের টানাপোড়েন কাকে বেছে নেবেন! শেষমেশ আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক গৃহবধূ। প্রেমিককে নিয়েই ‘সহমরণ’ বধূর। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) ময়নাগুড়ির খাগড়াবাড়ি এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। খবর পেয়েই ছুটে আসে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। কীভাবে ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এই ঘটনা।
জানা যায়, এদিন সকালে স্থানীয় মানুষজন সেখানের একটি চা বাগানে দু’জনের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ময়নাগুড়ি থানায় খবর দেওয়া হয়। ছুটে আসেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হয়। মৃত দুজনের নাম প্রতিমা রায় এবং প্রভাত অধিকারী। পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কিছুমাস আগে প্রভাত অধিকারী নামে ওই যুবকের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয় ময়নাগুড়ির বেদগাড়া গ্রামের গৃহবধূ প্রতিমা রায়ের। ভালোবাসার টানে মাস খানেক আগে প্রভাতের হাত ধরে বাড়ি ছাড়ে প্রতিমা। এরপর থেকে খোঁজ মিলছিল না! কিন্তু রবিবার রাতে দুজনের এলাকায় ফিরে আসেন বলে জানতে পেরেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। কিন্তু বাড়ি ফেরেননি তাঁরা। উলটে বাড়ির পাশের একটি চা বাগানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন প্রতিমা রায় এবং প্রভাত অধিকারী। পুলিশের দাবি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এই ঘটনা।
মৃত যুবকের দাদা প্রমোদ অধিকারী বলেন, ”বেশ কিছুমাস আগে ভাই প্রতিমাদেবীকে নিয়ে একটা জায়গায় ছিল। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে গেছিলেন। কিন্তু ফের দুজনে বাড়ি ছেড়েছিল।” প্রমোদবাবুর কথায়, ”রবিবার বাড়ি ফিরবে বলে ফোন করেছিল। আসতেও বলা হয়েছিল।” এরপরেই স্থানীয় চা বাগানে দুজনের আত্মহত্যার ঘটনা পান বলে জানিয়েছেন মৃত যুবকের দাদা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়।