সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজির অভিযোগ উঠল কলকাতার বড়বাজার-পোস্তা এলাকায়। ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের অনুমতি ছাড়া এলাকায় কোনও পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকতে পারছে না। বড়বাজারে ট্রাক পার্ক করিয়ে পণ্য নামানোর জন্যেও ৫০০-১০০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে চালকদের থেকে। সেই টাকা না দিলে পণ্য নামাতে দেওয়া হচ্ছে না বলেই অভিযোগ। যদিও বড়বাজার তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে আগেই পুলিশ প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বড়বাজার এশিয়ার বৃহত্তম পাইকারি বাজার। প্রত্যেক দিন সেখানে শ’য়ে শ’য়ে পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত। ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, কলকাতা শহরে যেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ২০-৫০ টাকা করে লাগে, সেখানে বড়বাজারে ট্রাকচালকদের ৫০০-১০০০ টাকার চালান কাটতে হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, শাসকদল তৃণমূলের কিছু নেতার মদতে ‘ছায়া প্রশাসন’ চলছে সেখানে। ২০২১ সালের কলকাতা পুরভোটে বড়বাজার এলাকায় হেরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী। এককালে বড়বাজারের দল বলে পরিচিত বিজেপির প্রার্থী জিতেছেন সেখানে। তা সত্ত্বেও শাসকদলের দাপট রয়ে গিয়েছে। ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক তৃণমূল নেতার অঙ্গুলিহেলনে যাবতীয় তোলাবাজি চলছে বলে অভিযোগ। ব্যবসায়ীদেরই, ওই শাসকনেতারই ‘যুব বাহিনী’ ট্রাকচালকদের উপর জুলুমবাজি চালান। মূলত জগন্নাথ ঘাট রোড, নাপিত পট্টি এবং স্ট্র্যান্ড রোড এলাকায় তারা সক্রিয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা টাকা না দিলে পুলিশ এসে হেনস্তা করে। আমাদের ট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। বড়বাজারে ঢুকতে দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়েই আমাদের শেষমেশ টাকা দিয়ে দিতে হয়।”
৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক বলেন, “এখানকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত। নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে এই সিন্ডিকেটরাজ চলছে।” একই অভিযোগ তুলেছেন সেখানকার আর এক বিজেপি নেত্রী মীনাদেবী পুরোহিত।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার বড়বাজারে তোলাবাজির ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের হেনস্তা করা হলে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর বিশাল সিং এবং অমিত সিং নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতি বদলায়নি বলেই অভিযোগ ব্যবসায়ীদের একাংশের।