পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রভাবতী দেবী দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। পড়তে বা লিখতে না জানলেও নিজের ভোটাধিকার সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট সচেতন। পরিবারের দাবি, ২০০২ সাল-সহ একাধিক নির্বাচনে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ছিল। চলতি বছরেও এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় পরিবারের তরফে নির্ধারিত ফর্ম যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দেওয়া হয়েছিল। তাই খসড়া তালিকায় তাঁকে মৃত দেখানোয় পরিবারে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসতেই পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, বিএলও তাঁদের নতুন করে সংশোধনী ফর্ম পূরণ করার নির্দেশ দেন। সেই ফর্ম জমা দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও লিখিত নোটিস বা সংশোধনের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ফলে প্রভাবতী দেবীর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আদৌ থাকবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনায় শুধুমাত্র পরিবার নয়, এলাকাবাসীর মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের নাম ভোটার তালিকায় বহাল থাকলেও একজন জীবিত নাগরিককে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকের মতে, এটি গুরুতর প্রশাসনিক গাফিলতির নজির।
ঘটনার খবর পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী প্রভাবতী দেবীর বাড়িতে যান এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির চাপে তড়িঘড়ি এসআইআর প্রক্রিয়া চালানোর ফলেই এমন মারাত্মক ভুল হচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এই ঘটনা ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা, এসআইআর প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। কবে একজন জীবিত নাগরিক সরকারি নথিতে আবার জীবিত হিসেবেই স্বীকৃতি পান সেটাই এখন দেখার।