জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শেষ হল ১৮ দিনের গ্রামীণ হস্তশিল্পের মহাযজ্ঞ । তিলোত্তমার বুকে আয়োজিত ২১তম কলকাতা সরস মেলা এবার আক্ষরিক অর্থেই আয়ের নিরিখে সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিল । মেলা শেষে দেখা গেল, মোট বিক্রির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি টাকায়, যা এই বার্ষিক আয়োজনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ ।
গত ৫ই জানুয়ারি এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেলার যবনিকা পতন ঘটে ।
সাফল্যের খতিয়ান: এক নজরে
--
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা মিশন বা 'আনন্দধারা' প্রকল্পের এই উদ্যোগে এবার সারা দেশ থেকে শিল্পীরা অংশ নিয়েছিলেন । মেলার সাফল্যের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক নিচে দেওয়া হল:
বিপুল অংশগ্রহণ: বাংলার ২৩টি জেলা ছাড়াও দেশের ১৩টি রাজ্য এবং ১৭টি সরকারি দপ্তর এই মেলায় সামিল হয়েছিল ।
পরিকাঠামো: মোট ২০৯টি স্টল, ২৩টি কিয়স্ক, ৩৮টি ওপেন স্পেস এবং ৩২টি ফুড কোর্ট স্টল নিয়ে সেজে উঠেছিল মেলাপ্রাঙ্গণ ।
+1
ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক: স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পণ্যকে বড় বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে আয়োজিত হয়েছিল ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে বিশ্ব বাংলা এবং ট্রেডার্স অ্যাসেম্বলির মতো নামী সংস্থাগুলো আগ্রহ দেখিয়েছে । এই বৈঠকে ১৬ জন বড় ক্রেতা এবং ৮০ জন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বিক্রেতা অংশ নেন ।
বিশেষ আকর্ষণ: বাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পকে তুলে ধরতে ছিল 'সৃষ্টিশ্রী প্যাভিলিয়ন' এবং শিশুদের জন্য ছিল 'শিশু আলয়' ।
লক্ষ্য যখন নারী ক্ষমতায়ন
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত 'আনন্দধারা' প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করা । ঘর সাজানোর সরঞ্জাম থেকে শুরু করে গয়না কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী— গ্রাম বাংলার মহিলাদের হাতের কাজ শহরবাসীর মন জয় করে নিয়েছে । প্রশাসনের মতে, এই বিপুল আয় গ্রামীণ কারিগরদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ।
আসছে আরও মেলা
কলকাতা সরস মেলা শেষ হলেও হস্তশিল্প প্রেমীদের জন্য সুখবর রয়েছে। গ্রামীণ শিল্পীদের উৎসাহ দিতে আগামী ২১শে জানুয়ারি থেকে ২রা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শ্যাম স্কয়ারে আয়োজিত হবে রাজ্য স্তরের 'সৃষ্টিশ্রী মেলা' । এছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে দুর্গাপুর, মালদা, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং শিলিগুড়িতেও পাঁচটি আঞ্চলিক সৃষ্টিশ্রী মেলা অনুষ্ঠিত হবে।