• সরকারি নোটিসে কৈলাসের ‘ঘণ্টা’ মন্তব্য, কোপে এসডিএম, জলদূষণে মৃত্যু: প্রশ্ন করায় এবার সাংবাদিকদের বুমে ধাক্কা মহিলা মন্ত্রীর
    বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • ইন্দোর: জলদূষণে ইন্দোরে মৃত্যুমিছিলের ঘটনায় প্রবল অস্বস্তিতে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার। কয়েকদিন আগেই এব্যাপারে প্রশ্নের মুখে পড়ে মেজাজ হারিয়েছিলেন মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়। সাংবাদিককে কটূক্তি করেন বিজেপির এই প্রবীণ নেতা। ‘ফোকটের প্রশ্ন’, ‘ঘণ্টা হয়েছে’-এমন সব মন্তব্যের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন কৈলাস। চাপের মুখে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু তা নিয়ে বিতর্কের জল আরও গড়াল। সরকারি নোটিসে কৈলাসের ‘ঘণ্টা’ মন্তব্যকে ‘অভব্য’ আখ্যা দিয়ে বিপাকে মধ্যপ্রদেশের এক অফিসার। তাঁকে সাসপেন্ড করল সরকার। ওই অফিসার হলেন দেওয়াসের মহকুমা শাসক (এসডিএম) আনন্দ মালব্য। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। 

    জল দূষণের মৃত্যু ও কৈলাসের মন্তব্যের প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক দেয় কংগ্রেস। ওই আন্দোলনে ব্যাপারে দেওয়াসের এসডিএম রাজস্ব বিভাগের কর্মীদের মোতায়েন নিয়ে একটি রুটিন প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করেন । সেখানে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ভাষার ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ। রাজস্ব বিভাগের আধিকারিকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন নিয়ে ওই নির্দেশিকার প্রথম অংশটি এসডিএমকে বিপাকে ফেলে। নোটিসে উল্লেখ করা হয়, ‘ইন্দোরে বিজেপি শাসিত পুরসভার সরবরাহ করা দূষিত জল পান করে ১৪ জন মারা গিয়েছেন। ২,৮০০ জন চিকিৎসাধীন। এই সংবেদনশীল বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের ‘ঘণ্টা’ শব্দের ব্যবহার অমানবিক এবং স্বেচ্ছাচারিতার লক্ষণ।’ বিষয়টি নজরে আসতেই এসডিএমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। সরকারি কাজে গাফিলতি, উদাসীনতার অভিযোগে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। এদিকে, বিষাক্ত পানীয় জল নিয়ে প্রশ্ন শুনে রাজ্যের আর এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও বিরূপ আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তিনি মধ্যপ্রদেশের নগরোন্নয়ন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা বাগরি। একটি অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের এসংক্রান্ত প্রশ্নের কোনও জবাব না দিয়েই চলে যান প্রতিমা। ঘটনার ভিডিয়োতে সাংবাদিকদের হাতে থাকা মাইক্রোফোন ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে দেখা গিয়েছে মন্ত্রীকে। 

    এরইমধ্যে ইন্দোরে দূষিত জল পান করে মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। স্থানীয়দের দাবি, সরকার মৃতের সংখ্যা বলছে ৬। যদিও এখনও পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ৯ হাজারেরও বেশি বাসিন্দার স্ক্রিনিং করা হয়েছে।  নতুন করে ২০ জন ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত।  তবে সমস্যা শুধু ডায়রিয়া বা সাধারণ জলবাহিত রোগেই সীমাবদ্ধ নেই বলে আশঙ্কা। কয়েকজনের শরীরে গুলেন-বারি সিনড্রোমের মতো জটিল স্নায়ু রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। যা পক্ষাঘাত বা মৃত্যুর কারণও হতে পারে। 
  • Link to this news (বর্তমান)