অসুস্থ বৃদ্ধ, রাস্তায় এসে শুনানির নথি যাচাই করলেন মহকুমা শাসক
বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: অসুস্থ বৃদ্ধ। সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে দোতলায় মহকুমা শাসকের দপ্তরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে রাস্তায় অটোতেই বসেছিলেন ৬৩ বছরের গণেশচন্দ্র রায়। সেই খবর পেয়ে নিজেই চেয়ার ছেড়ে নীচে নেমে এলেন জলপাইগুড়ি সদরের মহকুমা শাসক তমোজিৎ চক্রবর্তী। তারপর রাস্তায় দাঁড়িয়েই তিনি খতিয়ে দেখলেন ওই বৃদ্ধের নথিপত্র। প্রশাসনের এই মানবিকতায় খুশি গণেশবাবুর পাশাপাশি শুনানিতে হাজির হওয়া অন্যরা।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খারিজা বেরুবাড়ি-২ নম্বর অঞ্চলের বোনাপাড়া বড়দিঘির বাসিন্দা গণেশচন্দ্র রায়। সেখানকার ২৫৫ নম্বর পার্টের ভোটার তিনি। নেপালে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যাওয়ায় ভোট দিতে আসতে পারেননি। সেকারণে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাদ পড়ে যায় তাঁর নাম। এরই জেরে তাঁকে এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে। কিন্তু কয়েকমাস আগে বাইক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে জখম হন তিনি। পায়ে চোট লাগে। অপারেশন হলেও এখনও হাঁটতে পারছেন না। ফলে সোমবার শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য অটোয় চেপে জলপাইগুড়ি সদরের এসডিও অফিসে এলেও সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছনোর ক্ষমতা ছিল না গণেশবাবুর। এমনটা জানতে পেরে এসডিও তমোজিৎ চক্রবর্তী নিজেই অফিস থেকে রাস্তায় এসে তাঁর নথিপত্র যাচাই করেন।
মহকুমা শাসক বলেন, দুর্ঘটনার জেরে ওই বৃদ্ধ হাঁটতে পারছেন না। তিনি রাস্তায় অটোতে বসেছিলেন। এই খবর পেয়ে আমি নিজেই নেমে এসে তাঁর নথি খতিয়ে দেখেছি। কোনও বৈধ ভোটার যাতে চূড়ান্ত তালিকায় বাদ না পড়েন, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি গণেশচন্দ্র রায়। তিনি বলেন, আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করতাম। নেপালে কাজে যাওয়ায় ভোট দিতে আসতে পারিনি। সেকারণে আমার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাদ পড়ে যায়। ফলে আমাকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। এদিন জলপাইগুড়ি এসডিও অফিসে হিয়ারিংয়ে হাজির হয়েছিলাম। কিন্তু বাইক দুর্ঘটনার জেরে হাঁটতে পারছি না। তাই রাস্তায় অটোতে বসেছিলাম। এসডিও নিজে নেমে এসে আমার নথি খতিয়ে দেখেছেন।
খারিজা বেরুবাড়ি-২ অঞ্চলের ২৫৫ নম্বর পার্টের বিএলও রিনা দাস বলেন, ওই ভোটারকে নিয়ে এদিন শুনানিকেন্দ্রে হাজির হয়েছিলাম। তাঁর জন্য এসডিও যে মানবিকতা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
যদিও এদিন সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিসে শুনানিতে আসা কয়েকজন হয়রানির অভিযোগ তুলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। তাঁদের অভিযোগ, আমাদের কাছে নথির জেরক্স রয়েছে। মোবাইলে আসল নথির ছবি দেখিয়েছি। কিন্তু জানিয়ে দেওয়া হয়, মোবাইলে আসল নথির ছবি দেখালে চলবে না। হার্ড কপি দাখিল করতে হবে। এনিয়ে উত্তেজনা ছড়ালে একসময় নিজের চেম্বার ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় বিডিও মিহির কর্মকারকে। পুলিশকে তিনি বিষয়টি দেখতে বলেন। এরপরই ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করা ব্যক্তিদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এনিয়ে বিডিও অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি। • নিজস্ব চিত্র।