ফি বৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ উত্তরের জেলায় জেলায়, বেতন দিতে ছাত্রদের থেকে টাকা আদায়!
বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: স্কুলের গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীর বেতন দিতে পড়ুয়াদের কাছ থেকে বাড়তি ভর্তি ফি আদায়! সরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন ছড়াল জলপাইগুড়িতে। নতুন ক্লাসে ভর্তির জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ২৪০ টাকা। কিন্তু জলপাইগুড়ির গড়ালবাড়ি হাইস্কুলে সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার স্কুল পড়ুয়াদের কাছ থেকে নতুন ক্লাসে ভর্তির জন্য ৪৫০-১০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে সোমবার গড়ালবাড়ি হাইস্কুল, বাগডোগরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হাইস্কুল, বিধাননগরের সন্তোষিনী বিদ্যাচক্র হাইস্কুলের বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকদের একাংশ।
বাড়তি ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে গড়ালবাড়ি হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের সাফাই, গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মী না থাকায় ওই পদে দু’জনকে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বেতন দিতেই বাড়তি ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে। টিআইসি মদন সরকারের দাবি, স্কুল পরিচালন কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। তারই ভিত্তিতে সরকার নির্ধারিত ফি’র থেকে ৯০ টাকা বেশি নিচ্ছি। আর সরস্বতী পুজোর চাঁদা ১০০ টাকা এবং ২০ টাকা পরিচয়পত্র তৈরির জন্য। সব মিলিয়ে ৪৫০ টাকা আমরা নিচ্ছি।
প্রতিবাদে শামিল পড়ুয়াদের অভিভাবকদের দাবি, গড়ালবাড়িতে বেশিরভাগ মানুষ কৃষিজীবী, দিনমজুর। প্রতিটি বাড়িতে দুই-তিনজন করে পড়ুয়া রয়েছে। ফলে ভর্তি ফি হিসাবে এত টাকা বাড়তি দেওয়া সম্ভব নয়। যদিও স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি মহম্মদ নাসের আলি বলেন, এটা কোনও সমস্যা নয়। যা করা হয়েছে, অভিভাবকদের জানিয়ে করা হয়েছে। এখন কয়েকজন ঝামেলার চেষ্টা করছেন।
জলপাইগুড়ি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সুজিত সরকার অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষাদপ্তরকে না জানিয়ে এভাবে স্কুল কর্মী নিয়োগ করতে পারে না। তাছাড়া স্কুলের কর্মীর বেতন দেওয়ার জন্য পড়ুয়াদের কাছ থেকে এভাবে টাকা নেওয়া যায় না। খোঁজ নিচ্ছি আমরা।
অন্যদিকে, বাগডোগরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হাইস্কুলেও ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে অভিভাবকরা এদিন স্কুলের গেটে বিক্ষোভ দেখান। এখানে অতিরিক্ত ১৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ক’দিন আগে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল এআইডিএসও। এদিনও তারা বিক্ষোভ দেখায়। সংগঠনের দার্জিলিং জেলা কমিটির সদস্য দীপা বর্মন বলেন, আগেও বিক্ষোভ দেখিয়ে স্মারকলিপি গ্রহণ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিল অতিরিক্ত ফি নেবে না। এদিন শুনি ৪০০ টাকার ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে। তাই আমরা বাধা দিয়েছি। অভিভাবক সুজাতা রায় বলেন, গতবছর ৪৫০ টাকা দিয়েছিলাম। তারপরেও স্কুলের ফ্যান ঠিক করা হয়নি। দিনমজুর স্বামীর রোজগারের উপর তিন ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হয়। ১২০০ টাকা দেব কি করে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রতীপকুমার বসু বলেন, স্কুলের উন্নয়নে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়ে থাকে। এনিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার ফের বৈঠক ডাকা হয়েছে। তাছাড়া আমরা পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে টাকা নিচ্ছি না।
এদিন ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরের সন্তোষিনী বিদ্যাচক্র হাইস্কুলে অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখান। টিআইসি মনোজ মোচারি বলেন, গত ১৯ নভেম্বর অভিভাবকদের সঙ্গে এনিয়ে মিটিং হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমেই ভর্তির ফি এবার এক হাজার টাকা করা হয়। সেদিন কেউ আপত্তি জানাননি। এখন ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতেই কেউ কেউ বিক্ষোভ শুরু করেছেন। ফের বৈঠকে বসা হবে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত ভর্তির ফি আদায় বন্ধ এবং তা ফেরতের দাবিতে সোমবার তুফানগঞ্জ নৃপেন্দ্র নারায়ণ মেমোরিয়াল হাইস্কুলে স্মারকলিপি দেয় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ।