৬৫ হাজার ভোটারের শুনানি শেষ জেলায়, ১৫ শতাংশ অনুপস্থিত, উত্তরের তুলনায় দক্ষিণে গতি কম
বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: এক সপ্তাহে নদীয়া জেলার প্রায় ৬৫ হাজার ভোটারের শুনানি শেষ হয়েছে। যদিও শুনানিতে আসতে পারেননি, ১৫ শতাংশ ভোটার। কারণ, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৭ হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। যদিও শুনানিতে অনুপস্থিত ভোটারের একটি বড় অংশ পরিযায়ী শ্রমিক। প্রশাসনের আধিকারিকদের কথায়, নির্দিষ্ট দিনে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে না পারলে পরবর্তী কোনও তারিখের জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারকে আবেদন করতে হবে।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নদীয়া উত্তরের বিধানসভাগুলির তুলনায় নদীয়া দক্ষিণে শুনানির গতি কম। কারণ করিমপুর, পলাশীপাড়া, কালীগঞ্জ সহ একাধিক বিধানসভায় প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি ভোটারের শুনানি হয়ে গিয়েছে। অথচ নদীয়া দক্ষিণের কল্যাণী, হরিণঘাটা, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, রানাঘাট দক্ষিণের বিধানসভাগুলিতে গড়ে ১৫-২০ শতাংশ নো-ম্যাপিং ভোটারের শুনানি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির শুনানি শুরু হওয়ার কথা চলছে। তাই দক্ষিণ বিধানসভাগুলির ক্ষেত্রে তা সময়মতো শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান প্রশাসনিক মহলও।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় ২ লক্ষ ৮১ হাজার ভোটারকে শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে। যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯৬৮ জন ভোটারের নোটিস প্রিন্ট করা হয়েছে। নোটিস পাঠানো হয়েছে ২ লক্ষ ১৩ হাজার ২৯৮ জনকে। অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়ে গিয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৯২২ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। যার মধ্যে ৫৩ হাজার ৭২৪ জনের নথিপত্র বিএলওরা এখনও পর্যন্ত আপলোড করতে পেরেছেন।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তেহট্ট বিধানসভায় প্রায় সাড়ে ছ’হাজার নো-ম্যাপিং ভোটারের মধ্যে ৩৭৪৯ জনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। করিমপুরে প্রায় চার হাজারের মধ্যে ২০৭০ জন, কালীগঞ্জে প্রায় নো-ম্যাপিং ভোটারের অর্ধেক, অর্থাৎ ১৬৯০ জনের শুনানি হয়েছে। চাপড়া বিধানসভায় সাড়ে তিন হাজার ভোটারের মধ্যে ২৭২৪ জনের, পলাশীপাড়া বিধানসভায় ১৯৩০ জন এবং নাকাশিপাড়া বিধানসভায় ২৭২৪ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। জেলার উত্তরের বিধানসভাগুলির মধ্যে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ ও কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা শুনানিতে পিছিয়ে রয়েছে। কৃষ্ণনগর দক্ষিণে ১০ হাজারের বেশি নো-ম্যাপিং ভোটারের মধ্যে মাত্র ২৭৪০ জনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। কৃষ্ণনগর উত্তরে প্রায় ১৯ হাজারের মধ্যে মাত্র ২৬০১ জনের শুনানি হয়েছে।
পাশাপাশি, নদীয়া দক্ষিণের বিধানসভাগুলিতে শুনানি প্রক্রিয়া চলছে ঢিমেতালে। জেলায় সর্বাধিক নো-ম্যাপিং ভোটার রয়েছে কল্যাণী বিধানসভায়। সেখানে ৩৩ হাজারের মধ্যে মাত্র ৬০০০ জন ভোটারের শুনানি হয়েছে। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৩০ হাজারের মধ্যে ৫০০০ জন, রানাঘাট উত্তর-পূর্বে ৩২ হাজারের মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার ভোটারের শুনানি হয়েছে। এছাড়া, শান্তিপুরে ৫০৮৬জন, কৃষ্ণগঞ্জে ৩৬৪০ জন, রানাঘাট দক্ষিণে ৪১৪২ জন, চাকদহে ৫৩৫৫ জন এবং হরিণঘাটায় ৫১০৯ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসনের আধিকারিকদের মতে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই নদীয়া উত্তরের অধিকাংশ বিধানসভায় নো-ম্যাপিং ভোটারদের শুনানি শেষ হবে। এরপর লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি থাকা ভোটারদের শুনানি শুরু হবে। তবে, নদীয়া দক্ষিণের বিধানসভাগুলিতে এই দুই শ্রেণির ভোটারদের
শুনানি নির্ধারিত সময়ে শেষ করা কঠিন হবে।-নিজস্ব চিত্র