সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ঠাকুরবাড়িতে সাধুসন্তদের উপর আক্রমণ ও এসআইআরে হয়রানির প্রতিবাদে সোমবার বিষ্ণুপুরে মতুয়ারা মিছিল ও সভা করেন। এদিন তাঁরা শহরের সিদ্ধেশ্বরী বাইপাস থেকে ভগৎ সিং মোড় পর্যন্ত মিছিল করেন। সেখানে প্রতিবাদ সভায় ঠাকুরনগরে মতুয়াদের সাধুসন্তদের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন তাঁরা। এদিনের মিছিলে পুরুষ, মহিলা, শিশু, বৃদ্ধবৃদ্ধারাও শামিল হন।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে সুশান্ত রায় বলেন, শান্তনু ঠাকুরের প্ররোচনায় বিজেপি এবং আরএসএসের ক্যাডারবাহিনী ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে নান্টু গোঁসাই সহ অন্য সাধুসন্তদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে। তার প্রতিবাদে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে। এদিন আমরা বিষ্ণুপুরে একই কর্মসূচি পালন করেছি। আমাদের দাবি, ঠাকুরনগরের ঘটনায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। এদিন একই সঙ্গে এসআইআরের নামে যেভাবে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনকে হয়রান করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও এদিন আমরা আন্দোলন করেছি।
এদিন বিকেলে বিষ্ণুপুরের সুভাষপল্লি, শান্তিপুর, জয়কৃষ্ণপুর প্রভৃতি উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দারা বিষ্ণুপুর শহরে বাঁকুড়া-আরামবাগ ২ নম্বর রাজ্য সড়কের সিদ্ধেশ্বরী মোড়ে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল করেন। মতুয়াদের গুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের ও ঠাকুরনগরে হামলার ছবি নিয়ে আন্দোলনকারীরা মিছিল করেন। তাঁরা একদিকে মতুয়াদের উপর বারবার আক্রমণের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। অন্যদিকে, এসআইআরের নামে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনকে হয়রানির অভিযোগ তুলে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা গর্জে ওঠেন। মিছিল ভগৎ সিং মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা হয়। আন্দোলনকারী নেতৃত্ব তাতে বক্তব্য রাখেন।
এদিন টোটোয় চেপে বৃদ্ধ সনাতন বিশ্বাস আন্দোলনে শামিল হন। তিনি বলেন, আমি ছোটো থেকে সুভাষপল্লি গ্রামে রয়েছি। প্রতিবার ভোট দিচ্ছি। তা সত্ত্বেও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। আমাদের মতুয়া সম্প্রদায়ের অনেকেরই ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম নেই। তাঁদের প্রত্যেককে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। অসুস্থ অবস্থাতেও তাঁদের বিডিও অফিসে যেতে হচ্ছে। ওই দেশ থেকে আসা মতুয়াদের একজনেরও যাতে নাম এসআইআরে বাদ না যায়, তারজন্যই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
আন্দোলনকারীদের একাংশের বক্তব্য, গত কয়েকটি নির্বাচনে মতুয়া সম্প্রদায়ের সিংহভাগ ভোট বিজেপির পক্ষে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও আজকে এসআইআরের নামে সেই মতুয়াদের ‘বেনাগরিক’ করার চেষ্টা হচ্ছে। উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দারা একসময় পূর্ববঙ্গ থেকে এসেছিলেন। তাঁদের অনেকের কাছে পুরনো নথি নেই। সেকথা জানা সত্ত্বেও শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। অনেকেই নথি জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁরা ভীষণ চিন্তায় রয়েছেন। এই অবস্থায় আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। প্রতিবাদ করায় রাজনৈতিক মদতে ঠাকুরনগরে মতুয়া সাধুসন্তদের উপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। এদিন তারই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।