• চন্দ্রবোড়ার সঙ্গে একই বিছানায় রাত কাটিয়ে চন্দ্রকোণায় ‘হিরো’ শ্যামসুন্দর
    বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ঘাটাল: রাতের নিকষ অন্ধকার কেটে তখন সবে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। নিজের বিছানায় অঘোরে ঘুমোচ্ছেন শ্যামসুন্দরবাবু। আচমকাই প্রেসার কুকারের হুইসেলের মতো শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। তারপর পাশ ফিরে ঘুম চোখে তাকাতেই চক্ষু চরকগাছ। মশারির ভেতরেই বালিশের হাতখানেক দূরত্বে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে রয়েছে সাক্ষাৎ মৃত্যু! বিছানার মধ্যে একটি চন্দ্রবোড়াকে দেখে শরীরের রক্ত একেবারে হিম হওয়ার জোগাড়। বিছানায় মশারির নিরাপদ আশ্রয়ে অকাতরে ঘুমিয়ে থাকা শ্যামসুন্দরবাবু জানতেনই না রবিবার গোটা রাত ওই সাপটিকে নিয়েই কাটিয়েছেন তিনি। চন্দ্রকোণা থানার সীতাশোল গ্রামের বাসিন্দা শ্যামসুন্দর সাঁতরা বলেন, জানতাম না চন্দ্রবোড়া কুকারের হুইসেলের মতো শব্দ করতে পারে। তাই একদম শিয়রের কাছে সাক্ষাৎ যমদূত দেখেও সন্তর্পণে বিছানা থেকে নেমে ঘর থেকে বেরিয়ে কোনওমতে প্রাণে বাঁচি। এরপর বন দপ্তরে খবর দেওয়া হলে  উদ্ধারকারী দলের সদস্য মলয় ঘোষ এসে সাপটি নিয়ে যান। এদিকে চন্দ্রবোড়ার মতো বিষাক্ত সাপের সঙ্গে অজান্তেই রাত কাটিয়ে গোটা সীতাশোল গ্রামে যেন হিরোর মর্যাদা পাচ্ছেন শ্যামসুন্দরবাবু। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার ভারতের অন্যতম বিষধর সাপ। যে স্বভাবে অত্যন্ত হিংস্র। এরা সাধারণত মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই পালিয়ে যাওয়ার বদলে শরীরকে স্প্রিংয়ের মতো গুটিয়ে নিয়ে সজোরে হিস হিস শব্দ করে সাবধান করতে থাকে। ওই শব্দ অনেকটা কুকারের সিটি বা হুইসেলের মতো শোনায়। এদের আক্রমণ করার গতি এতই দ্রুত যে মানুষ চোখের পলক ফেলার আগেই এরা ছোবল বসিয়ে দিতে পারে। চন্দ্রবোড়ার বিষ মূলত রক্তকণিকা ও টিস্যুকে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে আক্রান্ত স্থানে পচন ধরা থেকে শুরু করে কিডনি বিকল পর্যন্ত হতে পারে। সাপ উদ্ধারকীরা দলের সদস্য মলয়বাবু বলেন, চন্দ্রবোড়া অন্যান্য সাপের মতো শান্ত নয়, বরং বিপদে পড়লে অত্যন্ত হিংস্র হয়ে উঠে। শ্যামসুন্দরবাবুর ক্ষেত্রেও তেমনটা ঘটার সম্ভাবনা ছিল প্রবল।

    মলয়বাবু আরও বলেন, চন্দ্রকোণার সীতাশোলের এই হাড়হিম করা ঘটনা আমাদের ফের মনে করিয়ে দেয় যে গ্রামগঞ্জে  সাপ থেকে কতটা সাবধান থাকা প্রয়োজন। বাড়ির চারপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখা এবং রাতে শোবার সময় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মশারি ব্যবহার করা উচিত। যা জীবনের জন্য কতটা অপরিহার্য তা শ্যামসুন্দরবাবুর এই বেঁচে ফেরা থেকেই পরিষ্কার। সেই সঙ্গে সাপের উপস্থিতি টের পেলে তাকে মারার চেষ্টা না করে বা আতঙ্কিত না হয়ে বন দপ্তরের সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মলয়বাবুর পরামর্শ,  সাপে কামড়ালে কোনও তুকতাক বা ওঝা-গুণিনের ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাস না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যেতে হবে। কারণ হাসপাতালে মজুত থাকা অ্যান্টি-ভেনামই জীবন বাঁচানোর একমাত্র বৈজ্ঞানিক রাস্তা। 
  • Link to this news (বর্তমান)